নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে। নির্বাচনে যাতে তারা কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য এই নজরদারি। গত ১৫ জুন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তারপরই ইসি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এই চিঠি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। নির্বাচনকে ঘিরে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উপ-নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কায় ১৭টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ২৩ জনকে সম্ভাব্য গোলযোগকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে ভোটকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে পুঁজি করে বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থকরা যেকোনো গ্রুপে ঢুকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের আগাম গ্রেফতারের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, মহা-পুলিশ পরিদর্শক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচনটিকে ‘স্পর্শকাতর’ আখ্যায়িত করে সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসির কার্যবিবরণী অনুযায়ী ওই বৈঠকে সিইসি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরো তত্পর হতে হবে ও সবদিকে সতর্ক দৃৃষ্টি রাখতে হবে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নির্বাচনী এলাকার ওপর নজর রাখতে হবে। কেন্দ্র দখলের কোনো ঘটনা ঘটতে দেয়া যাবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।
গত ২৯ এপ্রিল এ আসনের সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত ১৯ মে শূন্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী ২৬ জুন বৃহস্পতিবার ভোটের দিন নির্ধারণ করে। এই নির্বাচনে চারজন প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন জাতীয় পার্টি-জাপার একেএম সেলিম ওসমান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো. শফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরাম ও মামুন সিরাজুল মজিদ।
প্রচারণা বন্ধ মঙ্গলবার সকালে
ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে সবধরনের প্রচারণা, জনসভা, মিছিল বন্ধ রাখতে হবে। তা ২৮ জুন বিকাল চারটা পর্যন্ত বলবত্ থাকবে। এদিকে আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে কাজ করবে।
