আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ২২:২৭
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং তার দুই সঙ্গীকে ১৪ দিনের জন্য কারাগারে পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত আদালত। সোমবার বারাসাতের সি জি এম বিচারক মধুরিমা রায় এই নির্দেশ দিয়েছেন। নূর-সহ ৩ জনকে দমদম জেলে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সরকারি আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন দে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার নূরকে ফেরত নিয়ে যেতে আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে। আদালতের বাইরে নূর ইত্তেফাককে বলেন, আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছি। সোমবার বারাসাত আদালতে নূরদের ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেনি বিধাননগর পুলিশ। নূরের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালেও সুমনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তারক চন্দ্র দাস। কিন্তু তাকে নিয়োগ কে করলো তা তিনি বলতে চাননি। সরকারি আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন দে জানিয়েছেন, কারাগারে প্রয়োজনে পুলিশ নূরকে ফের জেরা করবে। ৭ জুলাই তাদের আবারও আদালতে তোলা হবে। তবে নূরকে ফেরত নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো আবেদন এখনো আদালতে জমা পড়েনি। আদালতে তোলার আগে ইত্তেফাককে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেন বলেছেন, আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। নেতার নির্দেশে আমি কলকাতায় এসেছি। এর আগে আট দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য সোমবার সকাল নয়টার দিকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে নেয়া হয় বাগুইহাটি হাসপাতালে। চক্রান্তের পেছনে কারা রয়েছে জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, আপনারা খুঁজে বের করুন। র্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি জানি না।’ নূর হোসেনের সহযোগী সুমন খান বলেন, আমি পাসপোর্ট, ভিসা নিয়ে এসেছি। তবু আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। জানা গেছে অপর সহযোগী সেলিমেরও পাসপোর্ট এবং ভিসা রয়েছে। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নূর হোসেনের কাছে পুলিশের আর কোনো কিছু জানার নেই। উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রাতে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন নূর হোসেন। কৈখালির একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১৫ জুন পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা আদালতের দ্বিতীয় বিচারিক হাকিম এডউইন লেপচা তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে পাঠান।