ঘরে ফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ প্রশংসনীয়

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ২১:২৭

জন ডেনভারের একটি বিখ্যাত গান আছে—কান্ট্রি রোডস, টেক মি হোম। রাজধানীর কর্মক্লান্তমুখর মানুষ চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকে ঈদ উত্সবের। যাহাদের গ্রামে মা-বাবা আত্মীয় পরিজন পড়িয়া থাকে, ঈদোত্সবে তাহাদের সহিত আনন্দে শরিক হইতে কে না চাহে? অন্যদিকে, ঢাকা এমন একটি কর্মমুখর রাজধানী যেইখানে সিংহভাগ লোকের শেকড় ঢাকার বাহিরে। সুতরাং শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়িতে যাইবার লম্বা লাইন পড়িয়া যায় এই সময়; কিন্তু চাহিলেই কি ঈদের সময় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরা যায়? প্রতি বত্সরই ঈদ উত্সবের সময় বাড়ি ফিরিবার পথে থাকে সীমাহীন দুর্ভোগ। তাহার পরও সকল ভোগান্তি হাসিমুখে সহ্য করিয়া মানুষ ছুটিয়া চলে গ্রামের বাড়ি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগণ চাহিলেই পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদযাত্রাকে আরো স্বস্তিকর করিয়া তুলিতে পারেন। সেই চেষ্টা করা হয় না, তাহা নহে। তবে আমাদের জনসংখ্যার চাপ এত বেশি যে, অত্যন্ত পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো কিছু যথাযথ ভাবে সামলানো সম্ভব নহে। আমরা প্রায়শই বলিয়া থাকি, নিয়মকানুন ও আইন মানিয়া না চলিলে কোনো কিছু শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব নহে। আর বিশৃঙ্খলার মাধ্যমেই তৈরি হয় সব ধরনের অরাজকতা। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, কেহ কেহ বিশৃঙ্খলার ঘোলা জলে মাছ শিকার করিতে ওত পাতিয়া থাকে। আশার কথা হইল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) গত রবিবার বলিয়াছেন, এইবার ঈদ উপলক্ষে টার্মিনাল হইতে বাস ছাড়িবার পূর্বেই চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, অন্যান্য কাগজপত্র ও পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষা করাইতে হইবে। কোনোভাবেই বাসের ছাদে যাত্রী উঠিতে দেওয়া যাইবে না।

বিআরটিসির হিসাবে, প্রতিদিন রাজধানী হইতে দূরপাল্লার বাসে ১৫ হইতে ২০ হাজার মানুষ রাজধানী ছাড়িয়া যায় আর এই সংখ্যা ঈদের আগে ও পরে মিলাইয়া প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পায়। এমনিতেই সড়ক মহাসড়কে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বত্সরভর চলিতেই থাকে। বর্তমানে রাজধানীর এয়ারপোর্ট হইতে গাজীপুর পর্যন্ত রোড ট্রানজিটের কাজ চলিতেছে। গত ঈদেও এই রুটের যাত্রীসাধারণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হইয়াছিলেন। বাস মালিক ও গাড়ি চালকরা যদি আন্তরিক হন, সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা মানিয়া চলেন—তাহা হইলে পরিস্থিতি ততটা নাজুক হইবে না বলিয়া মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা আশা করিব, সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা ঠিক রাখিবার দায়িত্বে যাহারা আছেন, তাহারা অতীতের অভিজ্ঞতা হইতে শিক্ষা লইয়া সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন। তাত্পর্যপূর্ণভাবে সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়াছেন আইজিপি। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন, ট্রাক, পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন রোধ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন না থামাইবার ব্যাপারেও নির্দেশনা রহিয়াছে। আমরা আশা করি জনপ্রিয় ‘জিরো টলারেন্স’ শব্দযুগল এইক্ষেত্রে কেবল কথার কথা হইয়া থাকিবে না—জন ডেনভারের গানের সুরের মতো সবুজ ছাউনির মহাসড়কের পথ ধরিয়া শেকড়ের টানে মানুষ ঘরে ফিরিবে স্বস্তির সহিত।