সরকার গ্রাম পর্যায়ে সবার কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র্র তৈরি করেছে—যাতে করে সেখানেই প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা যায়। তার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী ও ডাক্তার এবং তাদের থাকার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট বাসাও। গ্রাম পর্যায়ের কোনো সাধারণ মানুষ চিকিত্সার জন্য তাঁদের কাছে গেলে বলে টাকার কথা। যার টাকা আছে তার জন্য সেবাও আছে কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কোনো সেবা নাই। তার একটা মাত্র কারণ তাদের টাকা নাই বরং তাদের জন্য একটা ফাঁদ পেতে রেখেছেন সেখানকার কর্মীরা। এটা হচ্ছে টাকা নাই সেবা নাই। এমনকি অফিস চলাকালীন সময়ে দেখা মেলে না তাঁদের। তাঁরা শুধু সকালবেলায় এসে অফিসে হাজিরা দিয়ে হাসপাতালের দরজা-জানালা খোলা রেখে চলে যান বাড়িতে কিংবা নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে পশুর বিশ্রাম স্থান। আবার বিকাল ৫টার সময় কর্মীরা এসে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে চলে যান। তাঁদের এই দায়িত্বহীনতার জন্য গর্ভবতী নারীদের চিকিত্সার জন্য বহু কষ্ট করে যেতে হয় সদর হাসপাতালে। সাধারণ মানুষের চিকিত্সাসেবার জন্য সরকার প্রতিমাসে তাদের সব ধরনের ওষুধ দিচ্ছে নিয়মিত। সাধারণ মানুষের কোনো অসুখ হলেই তারা দ্বারস্থ হয় সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে। এখন প্রশ্ন হলো—ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য যে ওষুধ ও সরঞ্জাম দেওয়া হয় তা কোথায় যায়? জনগণের কাজেই যদি না আসে এসব সরকারি ওষুধপত্রের দরকারই-বা কী? তৃণমূল পর্যায়ে চিকিত্সাসেবা প্রদানের জন্য সরকার তাদেরকে মাসিক বেতন দিচ্ছে কেন?
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকেই রোগী বানিয়ে রাখা হয়েছে! এ ব্যাপারে তদারকি করার জন্য কি কেউ নেই?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
