এ কেমন সৌন্দর্যবোধ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:৩১
ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গল এই ঢাকা শহরে নিঃশ্বাস ফেলার মতো যে কয়েকটি ফাঁকা জায়গা আছে চন্দ্রিমা উদ্যান তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আজ হকারদের দৌরাত্ম্যে ও এই উদ্যানে আসা জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে এমন সুন্দর একটি জায়গার পরিবেশ নষ্ট হতে বসেছে। এই উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এর বেহাল অবস্থা যতই দেখছি ততই এর ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছি। প্রতিদিনই এর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এখানে নানারকমের হকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমে বাদাম ও ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের দেখা যেতো। এর পরে আসতে শুরু করলো ডাব বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, সিগারেট বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, মাঠা বিক্রেতা, চা-কফিওয়ালা, আইসক্রিম বিক্রেতা। ফলে মানুষ প্লাস্টিকের ডিসপোজেবল গ্লাস, আইসক্রিমের বাটি ও প্যাকেট, চিপস-এর প্যাকেট, বাদামের খোসা, পানির বোতল, ডাবের খোলা, সিগারেটের প্যাকেট ও সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ছুড়ে ফেলছে উদ্যানের এখানে সেখানে, লেকের পানিতে। এতে করে একদিকে যেমন লেকের পানি দূষিত হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি নষ্ট হচ্ছে এর সৌন্দর্য। এছাড়াও নানারকম হকারের উত্পাতে সাধারণ মানুষের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর জন্য কিছুটা দায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর এখানে ভ্রমণ করতে আসা কোনো কোনো মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আমরা জাতিগতভাবে অপেক্ষাকৃত কম সৌন্দর্য সচেতন, আর পরিবেশের শুদ্ধতা রক্ষার ব্যাপারে উদাসীন। লেকের পানি যদি পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত হয় তাহলে এর ধারে বসতে আমাদেরই তো ভালো লাগবে। তা না হলে একসময় এর অবস্থা বুড়িগঙ্গার মতো হবে। আমরা যারা এখানে সকাল-বিকাল ভ্রমণ করি তারা যদি একটু সচেতন হই, তাহলে আমরা এর সুফল পাবো। পাশাপাশি চন্দ্রিমা উদ্যানে হকারদের ঢুকতে না দেওয়ার জন্য এখানে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীদের আরো সক্রিয় ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকার অন্যান্য উদ্যান ও শিশু পার্কগুলোর অবস্থা চন্দ্রিমা উদ্যানের চেয়ে আরো করুণ। চন্দ্রিমা উদ্যান তো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সংসদভবনের সঙ্গে বলে তার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। কিন্তু অন্যান্য উদ্যান বা শিশু পার্কগুলো হয়ে গেছে নেশাখোর ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা। এই নগরজীবনে শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তাদের সকাল-বিকাল একটু খোলামেলা জায়গাতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। এমনিতেই আমাদের শিশুরা খাঁচায় বন্দি ফার্মের মুরগির মতো বড় হচ্ছে। তাদের বিনোদন বলতে শুধু ডোরেমন-পোকেমনের মতো আজগুবি কার্টুন ও ভিডিও গেম। সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে উদ্যান ও শিশুপার্কগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করার বিকল্প নেই। আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ