রেলওয়েতে পরিবর্তনের পথ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:৩১
রেলের বর্তমান উন্নয়ন শ্লাঘার বিষয়। উত্তরোত্তর উন্নতি হয়েই চলেছে। কিন্তু দুর্নীতি আর অবহেলা যেখানে সাধারণ নিয়ম বলে পরিগণিত হতো, নিশ্চিত লাভজনক খাতে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হতো—এমন একটি দানবকে বশে আনা অত সহজ নয়। কিন্তু প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আজ না হোক কাল অবশ্যই বিড়াল হোক আর দানব হোক, সে বশ মানবে। কিন্তু কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে এখনো সমস্যাটি রয়ে গেছে—কিছুদিন আগে আমি সপরিবার কমলাপুর থেকে ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ যোগে কিশোরগঞ্জ পৌঁছি। বরাবরের মতো বাড়ি যাওয়ার আগে ফিরতি টিকেট করতে কাউন্টারে যাই। টিকেট মাস্টার আমাকে চিনতে পেরে ‘কেমন আছি’ জিজ্ঞেস করলেন। চিনতে পারার কারণ গত ঈদুল আজহায় ফিরতি টিকেট করছিলাম, এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে এক লোক কাউন্টারে এসে বললো, দশ টাকা বেশি রেখেছেন কেন? মাস্টার বললেন, ‘ঈদের বকশিশ’—শুরু হলো তর্ক। এক পর্যায়ে আমি বললাম, জোর করে বকশিশ নেওয়া যায় না। টাকা ফেরত দিয়ে দিন। আমার টিকেট প্রিন্ট করে জিজ্ঞেস করলেন, বকশিশ কত রাখবো? বললাম, ষাট টাকা। তাঁর ধারণার চেয়ে বেশি হওয়ায় তিনি খুব খুশি হলেন, গল্প জোড়ার চেষ্টা করলেন। যা বলছিলাম, এগারসিন্ধুরের টিকেট চাইলাম। টিকেট আর ফেরত টাকা দিতে দিতে বললেন, ত্রিশ টাকা বেশি রেখেছি। ঢাকায় ফেরার দিন আমার বাড়ির দুজন লোক একই ট্রেনে সরারচর যাবে বলে আমার সঙ্গে আসে এবং টিকেট করে ট্রেনে ওঠে। একটু পর তারা আমাকে টিকেট দেখিয়ে বলে, দেখুন টিকেটের গায়ে দুজনের ভাড়া সত্তর টাকা লেখা কিন্তু রেখেছে তো আশি টাকা! ইত্যবসরে আশপাশের কেউ কেউ বলে উঠলো একই কথা। এবার অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। যাওয়া-আসার পথে আমার কম্পার্টমেন্টে লক্ষ করেছি, টিকেট ছাড়া কিছু লোক যাত্রী হয়েছে—তারা কেউ টিটিইর কাছে টিকেট কাটেনি বরং উেকাচ দিয়েছে আর টিটিই তা অভিনব পদ্ধতিতে পকেটস্থ করছে, কাউকে টিকেট কাটতে চাপ দিচ্ছে না। এগুলো কোনো খণ্ডিত চিত্র নয় বরং বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ যুগ ধরে চলে আসা কঠিন বাস্তবতা। এই তথ্য প্রদান কারো চাকরিচ্যুতির জন্য নয় বরং সমগ্র দেশব্যাপী নিত্যদিন শত শত যাত্রীর দুর্ভোগ লাঘব ও রেলওয়েতে কর্মরত একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বচ্ছ-নৈতিকতাপূর্ণ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস মাত্র। পরবর্তী সময়ে আমি ঐ স্টেশন কাউন্টারে একই ব্যক্তিকে পেলে এবং তিনি কারো থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন না দেখলেই খুশি হবো—পরিবর্তনের পথ এটিই। ঢাকা