উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করছে। ভারি বর্ষণে যে কোন সময় পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা থাকলেও তারা নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে না। পাহাড়ি বনভূমি দখলে নিয়ে ও ক্ষেত্র বিশেষে দখলবাজদের কাছ থেকে ক্রয় করে তারা গড়ে তুলেছে এই অবৈধ বসতি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে স্থানীয় সাইক্লোন সেন্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থান করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. আসলাম মজুমদার বলেন, বনবিভাগের পক্ষ থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কয়দিন পর তারা আবার ফিরে আসে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধ বসতি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাং বনবিটের আওতাধীন বরইতলী ইউনিয়নের মছন্যাকাটা, বানিয়ারছড়া, মাহমুদ নগর, পাহাড়তলী, ভিলেজার পাড়া, হারবাং ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া, শান্তি নগর, ফইজ্যার ডেবা, লম্বা ঘোনা, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলাম নগর, বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়াবাজার, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার ফাসিয়খালী ও ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া, নয়াপাড়া, কাকারা ইউনিয়নের বার আউলিয়া নগর, শাহওমর নগর, ফাসিয়খালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, ছগিরশাহ কাটা, ছায়রা খালী, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ও বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ৫০ হাজার মানুষ কয়েকযুগ ধরে বাস করছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চকরিয়ার হারবাং ও বরইতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার পাহাড়ে বসতি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। তাদের উচ্ছেদে ইতিমধ্যে অনেকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তারা ফের ওই এলাকায় এসে আবারো বসতি গড়ে তোলে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শাহ-ই-আলম বলেন, সমীক্ষা করে বনবিভাগের পক্ষ থেকে গতবছর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাহাড়ে বসবাসরত পরিবারের একটি তালিকা দেয়া হয়।
উপজেলার বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বেশিরভাগ লোকজন দরিদ্র শ্রেণির। এক প্রকার বাধ্য হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও তারা বসবাস করছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, উপজেলার ডুলাহাজারা, খুটাখালী, বরইতলী, কাকারা, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি ও হারবাং ইউনিয়নে বেশিরভাগ লোক পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করে আসছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এসব ইউনিয়নকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
