শিগগিরই ফিরছেন নূর হোসেন

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৪, ২২:৪৪
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনকে খুব শিগগিরই ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এমনই আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলে ভারত নূর হোসেনকে ফেরত দেবে। পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন গতকাল বিকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে একই কথা জানিয়ে বলেন, ভারত কোন দেশের অপরাধীদের জন্য নিরাপদ স্থান নয়। সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের ঠাঁই ভারতে হবে না। অবশ্যই ভারত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। নূর হোসেন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত কারাগারে আটক রয়েছেন। সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে বন্দী প্রত্যপর্ণ চুক্তির আওতায়। গত বছর ভারতের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি হলেও ইতিপূর্বে কাউকে ফেরত পাওয়া যায়নি। যদি নূর হোসেনকে ফেরত পাওয়া যায়, তবে তিনি হবেন বন্দীবিনিময় চুক্তির প্রথম ব্যক্তি। অপরদিকে গত সাত বছরে ভারত থেকে পুশ ব্যাকে ফেরত আনা হয়েছে রাজধানীর ১২ শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ শতাধিক সন্ত্রাসীকে। নূর হোসেন গ্রেফতারের পর পরই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফেরত পেতে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পাঠানো হয়। দিল্লি নূর হোসেনকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এ ব্যাপারে বিষয়টি আলোচনা হয়। পুলিশ সদর দফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও নূর হোসেনকে ফেরত আনার ব্যাপারে আদালতের (পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আদালত) আদেশের উপরই নির্ভর করছে দিনক্ষণ। কারণ নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তবে বারাসাত জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার শান্তিময় বসু সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আবেদনের পরেই বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। গত ১৪ জুন রাতে কলকাতার কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দুই সহযোগীসহ পুলিশ নূর হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ৮ দিন রিমান্ড শেষে গত ২৩ জুন আদালতে হাজির করে। আদালত পুনঃরিমান্ড না দিয়ে তাদেরকে ১৪ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয়। সিআইডির সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা (বর্তমানে কেএমপি ডিসি) আব্দুল্লা আরেফ বলেন, ২০০৭ সালের অক্টোবর ও ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে চার দফায় ৮ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ভারত থেকে ফেরত আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে রয়েছে সানজিদুল ইসলাম ইমন, ডাকাত শহীদের সহযোগী ইসাহাক আলী, হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, সোহেল ওরফে ইব্রাহীম, লম্বু সেলিম, রফিক মলি¬ক ও বাবুল ওরফে জুয়েল। তিনি আরো বলেন, ঐ সময় বেশ কয়েক দফায় সন্ত্রাসীদের ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি কলকাতা সফর করেছেন। শনাক্ত করেছিলেন কলকাতা পুলিশের হাতে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ, জয়সহ কয়েকজনকে। তাদেরকে পুশব্যাকের মাধ্যমে ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে নানা কারণে তাদের ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন (তিনি পুলিশের অন্য ইউনিটে কর্মরত), ২০০৯ সালের দিকে সন্ত্রাসী রনিসহ (মগবাজারের) বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে পুশব্যাকের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছিল; কিন্তু পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শীর্ষসহ শতাধিক সন্ত্রাসীকে পুশব্যাকের মাধ্যমে ভারত থেকে ফেরত আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে নানা কারণে আর ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।