মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপিত হবে

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৪, ২২:৪৬
তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি কনসোর্টিয়াম-এর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। মহেশখালীতে এ টার্মিনাল নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ডিসেম্বরে চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে। এরপর নির্মাণ কাজ শেষ করতে ১৬ মাস সময় লাগবে। ২০১৬ সালে এই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস আমদানি সম্ভব হবে। আর এর মধ্যদিয়ে গ্যাসের আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করল বাংলাদেশ। তরল আকারে সমুদ্রপথে এই গ্যাস আমদানি করা হবে। পরে তা আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপে বিতরণ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মোজ্জামেল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর, অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি কনসোর্টিয়াম-এর প্রতিনিধি স্যাম্পু সুভিস্যারি উপস্থিত ছিলেন। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ১৫ বছরের চুক্তি করবে পেট্রোবাংলা। এই টার্মিনালের মাধ্যমে তরল গ্যাসকে আবার স্বাভাবিক মাত্রায় এনে পাইপে দেয়া হবে। এই পুনঃগ্যাস করতে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের জন্য ৪৭ সেন্ট করে নেবে। এই ৪৭ সেন্টের মধ্যে অন্য পরিচালনা খরচও ধরা হয়েছে। প্রতিদিন এই টার্মিনাল দিয়ে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা যাবে। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে গ্যাসের বর্তমান দাম থাকবে না। এই দাম বাড়তে থাকবে। তাই অনুত্পাদনশীল খাতে না দিয়ে উত্পাদনশীল খাতে এই গ্যাস ব্যবহার করতে হবে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে ২০১২ সালে ৩টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। কোম্পানি ৩টি হচ্ছে-ভারতের হিরানান্দিয়ানী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের সিএন্ডটি করপোরেশন। কারিগরি উপযুক্ততা ও সর্বনিন্ম আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনায় অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি-এর প্রস্তাবটি অধিক গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় গতকাল কোম্পানীটির সাথে সরকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এলএনজি গ্যাস রূপান্তর করে চট্টগ্রামে আনার জন্য ৯১ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করতে হবে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত সরবরাহ লাইন স্থাপন করবে। পাইপ সরবরাহের জন্য ভারতীয় মান কোম্পানির তিন কোটি ৬৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৭৫ ডলার দরপ্রস্তাব প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হলে পাইপলাইন নির্মাণকাজও শুরু হবে।