কেউ বলেন পোর্তে আলেগ্রে। কেউ বলেন পোর্তে আলগেরে, আবার কারো কাছে এটি পোর্ত আলেগরি। ব্রাজিলিয়ানরা বলেন এক রকম, আর আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরা বলেন আরেক রকম। যার কাছে যেমনই হোক না কেন আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ নিয়ে এই সুন্দর শহরে ফুটবল দর্শকদের আগ্রহের কমতি ছিল না। ব্রাজিলয়ানরা মাঠে গিয়েছিলেন নাইজেরিয়াকে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে হারাতে! তাদের সেই আশা পূরণ না হলেও আর্জেন্টিনা যে হেরেও যেতে পারতো সেটা মেনে নিয়েছেন খোদ আর্জেন্টাইনরাই।
৩-২ গোলে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস সাবেলা যতই বাহবা পান না কেন, মাঠে খেলা দেখতে আসা দর্শকরা তাদের আশংকাটা বার বারই প্রকাশ করছিলেন। ম্যাচ জিতলো আর্জেন্টিনা, প্রিয় ফুটবলার মেসি গোল করলেন ২টি। তারপরও কেন এই শংকা? দর্শকরা মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলছিলেন, ‘এভাবে খেললে ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালের টিকিট পাওয়া যাবে না।’ সুপার ঈগলদের বিরুদ্ধে সহজ জয় হবে মনে করে মিস্টার সাবেলা দল নামিয়েছেন মাঠে-এমন ধারণা আর্জেন্টাইনদের। ম্যাচটা হেরে গেলে তখন কী হতো? আর্জেন্টিনার সমর্থক জেনিফার বললেন, ‘নাইজেরিয়া তিন গোলে হারলেও ওদের আহেমদ মুসা তো দুই গোল শোধ করে প্রমাণ করেই দিয়েছেন যে তারা সুযোগ পেলে কী করতে পারেন।’
আর্জেন্টিনা এফ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আর নাইজেরিয়া হারলেও প্রথম আফ্রিকান দল হিসাবে তারাও পৌঁছে গেছে নকআউট পর্বে। ম্যাচটিতে সুপার ঈগলদের হারানোর কিছু ছিল না। পিছিয়ে থেকেও গোল করে করে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তারা নিয়েই ফেলেছিল। যদি সেটা কাজে লাগতো। তাহলে কী হতো ? এই ভয় আর্জেন্টিনা থেকে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের।
দক্ষিণ ব্রাজিলের ঐতিহাসিক শহর পোর্তো আলেগ্রে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন প্রায় ২০ হাজারের বেশি আর্জেন্টাইন দর্শক। খেলা দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কাছে গোলের বর্ণনা ছিল আলোচনার বিষয়। অনেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতো মতামত দিলেন। সাবেলার দল কোথায় ভুল করেছে, কি ভুল আছে তা বললেন এলিসা। রক্ষণভাগের ভুলেই গোল হয়েছে বলে তার মত। এলিসার মতো অনেকেই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে রক্ষণভাগে ভুল করতে করতে বেঁচে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে মেসি জাদুটা দেখিয়েছেন বলেই ইরানের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে ফেরে আর্জেন্টিনা। এবার নাইরেজিয়ার বিরুদ্ধে খেলায়ও রক্ষণভাগের দুর্বলতায় গোল খেয়েছে দলটি।
ইউনিভার্সিটির ছাত্রী জেনিফার বললেন, ‘এটা ভালো লক্ষণ নয়। আমরা ম্যাচ জিতলেও বলতে পারেন বেঁচে গিয়েছি। আহেমদ মুসা যে গোল দুটি করেছেন তার জন্য সেটা বাহাদুরির ব্যাপারও বটে।’ দলীয় কোচকে দোষী সাব্যস্ত করে বললেন, ‘মেসিকে তুলে নিয়ে ভুল করেছেন সাবেলা। তাকে হ্যাটট্রিক করার সুযোগটা দিলেই বা কি হতো। সুইজারল্যান্ড-হন্ডুরাস ম্যাচের দিকে দেখুন। শারিকি হ্যাটট্রিক করেছেন। তারও অনেক পরে গিয়ে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ।’ এ ব্যাপারে কোচ আলেসান্দ্রে সাবেলা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মেসিকে নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। আমি মেসিকে বিশ্রাম দিয়েছি।’
খেলার ৬৩ মিনিটে মেসিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পোর্তে আলেগে র বেইরা রিও স্টেডিয়ামের আর্জেন্টিনার দর্শকরা চিত্কার করে কোচের খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাবেলা বলেছেন, ‘হ্যাটট্রিকের জন্য আমি কোন ঝুঁকি নিতে পারি না। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটতো? সেটা কী আমার জন্য ভালো হতো? আমার কাছে হ্যাটট্রিকের চেয়ে ম্যাচটা বড়। মেসির ক্যারিয়ারটা বড়।’
ইরানের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা যে খেলাটা খেলেছিল তার সমান খেলতে পারেনি নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে। ম্যাচ নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠলে কোচ সাবেলা বলেন, ‘এটা আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো হয়েছে। আপানারা খেয়াল করলে দেখবেন বক্সের ভেতর থেকে আমরা ১০-১২টা শট করেছি।’ কিন্তু সাবেলার কথায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের শংকা কাটছে না। তারা উল্টো যুক্তি দেখাচ্ছেন। বলছেন, ‘দশ বারোটি শট করলেও আমরা দুটো গোল খেয়েছি। সেটা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’
