প্রস্তাবিত বাজেট পাস হচ্ছে আগামী রবিবার। এর একদিন আগে শনিবার অর্থবিল পাস হচ্ছে। চূড়ান্ত বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আয়করে বড় ধরনের ছাড় পাচ্ছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যাপিটাল গেইনের (অর্জিত মূলধন) উপর কর বসানো হলেও চূড়ান্ত বাজেটে তা কমানো হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের হতাশা দূর করতে সরকার এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়করও (এআইটি) প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক কমিয়ে অর্ধেক করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশে গতকাল রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসব সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। এটি প্রস্তাবিত ২ লাখ ২০ হাজার টাকাই থাকছে। এছাড়া বহুল আলোচিত কালো টাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত থাকছে। তবে ট্রেজারি বন্ডে এই টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে। এসব সংশোধনী আনার মাধ্যমে আগামী রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্জিত মূলধনে কর থাকছে না। ২০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার উপরে অর্জিত মূলধনে ৩ শতাংশ হারে কর আরোপ হতে যাচ্ছে। বাজেট প্রস্তাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাপিটাল গেইন করমুক্ত থাকলেও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ এবং ২০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে অর্জিত মূলধনে ৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারই প্রথম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া চূড়ান্ত বাজেটে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ার লভ্যাংশকে করমুক্ত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ার লভ্যাংশকে করমুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। অবশ্য, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ার লভ্যাংশকে করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিলে তাদের ১০ শতাংশ কর রেয়াত প্রত্যাহার করা হয়। তবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের কারণে ডিএসই’র কর হারে ক্রমহ্রাসমান হারে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।
বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এ বাজেটের সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এ বাজেট পুঁজিবাজার বান্ধব নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়। তবে বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত বাজেটে এআইটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া আমদানি শুল্ক বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
