নিজেকে সংযত রাখতে

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ১৯:১০
তরুণদের সাধারণত আত্ম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনেকটাই কম থাকে। সংযমী মনোভাবের অভাবে অনেক সময়ই ঘটে যায় অনেক বাজে রকমের বিপত্তি। সংযমের এই মাসে সহজ ও সুন্দর জীবন যাপনের ক্ষেত্রে নিজেকে সংযত রাখাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো কাজে নিজেকে সংযত রেখে কাজটি আদ্যোপান্ত বুঝেই এগোনো উচিত। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক ধরুন আপনার বন্ধুকে একজন মারছে আর অমনি আপনি গিয়ে যে মারছিল তার উপর চড়াও হলেন। দিতে শুরু করলেন রাম ধোলাই। কোনো জানাজানি নেই, নেই কিছু বোঝাবুঝির সময়। অন্য আরেক জনের হস্তক্ষেপে মারামারি কিছুটা কমল। জানা গেল যে, আপনার বন্ধুকে লোকটি মারছে না, তারা কুংফু বা কারাতি প্র্যাকটিস করছিল মাত্র। ততক্ষণে ওই ব্যক্তির বারোটা বেজে গেছে। তখন নিজেকে খুব বোকা মনে হবে আপনার। এ ক্ষেত্রে আপনি হচ্ছেন ‘রি-অ্যাকটিভ’ আর যার হস্তক্ষেপে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলো তিনি হচ্ছেন ‘প্রো-অ্যাকটিভ’। রি-অ্যাকটিভ ব্যক্তিরা ঘটনার আদ্যোপান্ত না দেখে সক্রিয় হয়। আর প্রো-অ্যাকটিভ ব্যক্তিরা ঘটনা ঘটনোর আগে বা সক্রিয় হওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে অগ্রসর হয়। প্রকৃতপক্ষে এই প্রো-অ্যাকটিভ টাইপের লোকেরাই ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে। তার ইচ্ছায় সমস্যা সমাধান হয় অথবা সমস্যা আরও জটিল হয়। সফল হতে চাইলে বেশ কিছু ব্যাপার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাগ। রাগ হচ্ছে পাগলা ঘোড়ার মতো, আপনি একে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য লাগাম টেনে ধরতে পারেন। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যেটার নাম হিংসা। কারণ হিংসা আপনাকে ধ্বংসের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। তেমনি, লোভ, গিবত, অহংকার ইত্যাদি কিছু অভ্যাসও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ ছাড়াও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আপনার চিন্তাশক্তি, আপনার আশপাশের পরিবেশ। নিয়ন্ত্রণ চাই নিজের আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি। সবসময় রেগে থাকেন এমন লোকের দেখা প্রায়ই পাওয়া যায়। আবার হুট করেই রেগে যান এমন লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও মানুষ কম করে না। নানা রকম ধ্যান করার মাধ্যমেও অনেকে রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। আপনি যদি রাগী মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ দেন, তা হলে তাদের আগ্রাসী মনোভাব অনেক কমে আসে। তবে ব্যাপারটা এ রকমও নয় যে, রাগী মানুষ নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা একেবারেই করেন না। এ ছাড়া নিজের পছন্দ-অপছন্দের উপরও একটি অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপার মাঝে মাঝে লক্ষ করা যায়। যেমন, তিথিকে অমিত মোটেই সহ্য করতে পারে না। তার সবকিছুই অমিতের অপছন্দ। তবুও তিথি বারবার অমিতের কাছেই ছুটে আসে। অমিতের বিরক্তিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বরং তার প্রতি আরও বেশি করে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অগত্যাই অমিতকে জোর করে তার অপছন্দের মানুষটিকে পছন্দের জ্যাকেটে চাপাতে হয়। ব্যবহার বলেও তো একটা বিষয় আছে। এ রকম পরিস্থিতি আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো সময় ঘটে। তাই এ ক্ষেত্রে মাথা ঠাণ্ডা রেখেই সমাধানই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কাউকে দেখে বিরক্ত হওয়ার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। তাই প্রথমে ভেবে দেখব, কেন আমি তাকে অপছন্দ করি। তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা মনোমালিন্য হয়ে থাকলে কথা বলে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু যদি কারও স্বভাবটাই বিরক্তির কারণ হয়, তাহলে? স্বভাব যায় না ম’লে এবং সেটা আমি বদলাতে পারব না। তাই ও নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো। তার সঙ্গে হাই-হ্যালোটুকু রাখব এবং সে কথা বলতে এলে অল্প কথায় প্রসঙ্গ শেষ করব। কখনোই তার প্রতি কঠিন বা বাজে আচরণ দেখাব না। নিজের ব্যবহারে যেন কখনোই আমার মনোভাব ফুটে না উঠে। কাউকে রাগিয়ে দিয়ে বা আঘাত করে বিরাগভাজন হওয়াটা কি খুব দরকার। একটা কথা সবারই মাথায় রাখা উচিত। আমি তাকে পছন্দ করি না, সে তা বুঝতে পেরে আমার সঙ্গে যদি পাল্টা খারাপ ব্যবহার করে, তখন সেটা নিতে পারব তো? তা ছাড়া ব্যবহার তো মানুষের পরিচয়, নিজের ব্যবহারে কালি ছিটিয়ে লাভ কী? আমাদের দেখার জন্য দুটি চোখ আছে। আমরা তা দিয়েই এই পৃথিবীর সকল কিছু দেখি। যা ভালো লাগে তা দেখি বেশি বেশি; যা খারাপ লাগে তা হয়তো কিছু কম। দেখার এই চোখ একেকজন মানুষের একেক রকম। কেউ কচুপাতার শিশির দেখে আনন্দিত। কেউবা ঝাউ বন, কেউবা জাগতিক কিছু। কিন্তু মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই কুিসত আকার ধারণ করে। আমাদের সমাজে মেয়েদের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকানোটা অনেকাংশে কমে গেছে। মুরুব্বি শ্রেণীর কারও চোখে চোখ রাখা ছিল বেয়াদবি। তাদের মুখে মুখে কথা বলা ছিল বেয়াড়া আচরণের উদাহরণ। অথচ বর্তমানে অনেকটাই লজ্জিত হতে হয় অনেক মানুষের দৃষ্টি দেখে। তাদের দেখার উদ্দেশ্য দেখে। এমন নগ্নভাবে তাকানোটা বর্তমানে হয়তো গা সওয়া হয়ে গেছে। মেয়েরাও এই নগ্ন কুিসত চোখের সামনে প্রতিদিন হাঁটছে, কাজ করছে নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে লক্ষ্যের দিকে। তাই তরুণদের জন্য নিজের দৃষ্টিসংযত রাখাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কিছু দেখার চেষ্টা করা উচিত। সুন্দর কিছু দেখা এবং তা অবশ্যই শোভনীয়ভাবে। অশোভনভাবে অশ্লীলভাবে যেন আমি কোনো কিছুই না দেখি—আজ সবার এই প্রতিজ্ঞা করা উচিত। মডেল মারজান নিশা