মন মাঝি আজ পদ্মায় নাও বাইতে পারে না, পদ্মা আজ শুকিয়ে মরুভূমি হতে চলছে। আমাদের কূটনৈতিক অদক্ষতাই কি পদ্মায় পানি আনতে পারছে না নাকি ভারতের বড়ভাই সুলভ আচরণ এর জন্য দায়ী। যুক্তির তীক্ষতায় এ জাতীয় সমস্যার উত্তর খুঁজেছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ। শুধু রাষ্ট্রীয় সীমানায় আবদ্ধ ছিল না তাদের যুক্তির সীমা রেখা। ইরাক, আফগান কিংবা সিরিয়ায় আগুন জ্বলার পিছনে কি মার্কিনীরাই দায়ী নাকি পুতুল জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা মুখ্য। এ সকল আন্তর্জাতিক সমস্যাও তারা পরীক্ষা করেছে যুক্তির কষ্টি পাথর দিয়ে। তাদের প্রতিধ্বনি পাওয়া মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার পুরস্কার বিতরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র ছাত্র মাসাহেদ হাসান জানান, একজন ভালো বক্তাই হতে পারে একজন ভালো নেতা, আর সে দায়িত্ব নিতেই সমাবেত হয়েছে তারা। গত ১৮ থেকে ২১ জুন মেধাবী তরুণদের যুক্তি, তর্ক ও বিতর্কের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল ১৭/৬ ইস্কাটনে অবস্থিত ডিসিএলই (Dhaka Centre for law & Economics)-এর ক্যাম্পাস। কারা ছিল না এ মহান আলোকিত উত্সবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার ভিতরে অবস্থিত এ সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী মেডিকেলের মতো ঢাকার বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও ছিল এ উত্সবে সরব উপস্থিত, ইস্ট ওয়েস্ট, স্টেট, এশিয়ান, স্টামফোরড, স্টেটের মতো প্রতিষ্ঠান। ঢাকা মেডিকেল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল, ঢাকা কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানও যোগ দিয়েছিল এ বিতর্ক সভায়। মূলত সারাদেশ থেকে আবেদন করা ৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাছাইকৃত ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শুরু হয় এ উত্সব। এত গেল প্রতিযোগীদের কাহিনী কিন্তু কারা ছিল এ বিতর্ক উত্সবের বিচারক? এ উত্সবের বিচারক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে গর্বিত বোধ করছি এখানে থাকতে পেরে, আমি আবারও আসতে চাই আগামী উত্সবে।’ বাংলা পিডিয়ার গবেষক ডক্টর পারভিন আক্তার, ব্যারিস্টার অনিক রুশধ হক, ব্যারিস্টার নাসের আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক গোলাম গাউশ আল-কাদ্রি, উপ-সচিব বিপুল চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার তানিভির পারভেজ, সাংবাদিক আহসান হাবীব, কবি ও সাহিত্যিক সাইফুল ইসালাম সবুজ, ব্যারিস্টার নাবিল আহসান, ব্যারিস্টার সিহাব আলম, ব্যারিস্টার শেখর বাপ্পি, দিদারুল হাসান, মারজুক আহমেদ, নির্ঝর আহমেদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ছাড়াও আরও অনেকে। অন্যদিকে এই তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে নানা মজাদার বক্তব্যে সমাপণী অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর-রউফ, বিমানের সাবেক এম ডি কর্নেল হাসান, বাংলাদেশের ক্যালিওগ্রাফি জগতের আরেক পুরধা, চট্টগ্রাম আর্টস কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. সাবিউল আলম, প্রফেসর বড়ুয়া, ব্যারিস্টার ফাতেমা আনোয়ার (হেড অব লজ, ডিসিএলই), মো. নুরুল ইসলাম (প্রিন্সিপাল অব ডিসিএলই)-সহ অনেকে গুণী মানি ব্যক্তি এর সমাপণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি এই দুই ভাগে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, ইংরেজি বিভাগে জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং বাংলা বিভাগে বিজিত দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং ইংরেজি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা ও ইংরেজি উভয় বিভাগে জয়ী দলকে দেওয়া হয় ২০০০০ হাজার টাকা, ট্রফিসহ আরও অনেক কিছু, বাংলা ও ইংরেজি উভয় বিভাগে বিজিত বা রানার আপ দলকে দেওয়া হয় ১০০০০ হাজার টাকা, ট্রফিসহ আরও অনেক কিছু। পুরো টুর্নামেন্টের বাংলা বিভাগে শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে মনোনীত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র ছাত্র মাসাহেদ হাসান সীমান্ত আর ইংরেজি বিভাগে শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে মনোনীত হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের তাস্নিম জারা। উভয়কে ৫০০০০ টাকা, ট্রফি, সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে সম্মানিত করা হয়। আর এই মহান উত্সব বাস্তবায়ন করেছে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রেজিস্টার সেন্টার ডিসিএলইতে পড়ুয়া এক ঝাঁক মেধাবী তরুণদের নিয়ে গঠিত সংঘটন ডিডিসি। DDC-এর কনভেনর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদ হাসান আকন্দ এবং তাছাড়া গাজী পারভেজ, নূরজাহান, বনরূপা, তাসসিন, তন্ময়, মুশফিকুর রাহমান কো-কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন। বিতর্ক উত্সবের মিডিয়া পার্টনার হিসাবে কাজ করে দৈনিক ইত্তেফাক এবং ঢাকা এফএম।
