ঈদ সামনে রেখে ভারত থেকে অবৈধ পথে চট্টগ্রামে আসতে শুরু করেছে শাড়ি, থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, বাচ্চাদের কাপড়সহ নানা ধরনের পোশাক সামগ্রী। ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিবছর রমজানের আগে থেকেই চটকদার ভারতীয় পোশাকে বন্দরনগরীর মার্কেট ও শপিং মলগুলো ছেয়ে যায়। গতকাল শুক্রবারও নগরীর ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় প্রায় ৬১ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়িসহ একটি ট্রাক আটক করেছে কোস্টগার্ড পূর্ব জোন। অবৈধপথে আনা ভারতীয় পোশাক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই কেনাবেচা হয় নগরীর টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও মার্কেটগুলোতে। জানা গেছে, প্রতি বছর রমজান মাসে চট্টগ্রামে শত শত কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক কেনাবেচা হয়। অথচ এ খাত থেকে সরকারের এক পয়সাও রাজস্ব আয়ের সুযোগ নেই। কারণ কাস্টমস ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে এসব পোশাক আনা হয়। ভারতীয় পোশাকের আগ্রাসনে স্থানীয় বুটিক হাউজগুলো রমজান মাসে আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছে না। ফলে এ খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভারতীয় পোশাকের অবৈধ আমদানি ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির নজদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি তারা মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা বৃদ্ধি এবং রমজান মাসে বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভারতীয় কাপড় জব্দ করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, পোশাক শিল্পে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকলেও অবৈধপথে বিদেশি পোশাক আসায় আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ হবে না। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ না হলে কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে।
চট্টগ্রামে বুটিক শিল্প আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ ফারুক ই আজম বীর প্রতীক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের বুটিক হাউজগুলোর পোশাক যে কোনো বিদেশি পোশাকের তুলনায় অনেক মজবুত ও রুচিসম্পন্ন। দামও কম। কিন্তু সীমান্তে শিথিলতার কারণে ভারতীয় পোশাকে আমাদের বাজার ছেয়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান ব্যাহত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের জোনাল কমান্ডার লে. কমান্ডার এম রাজিবুল ইসলাম জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ড সজাগ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের একটি অপারেশন দল ডবলমুরিং থানাধীন কাঁচা বাজার মনসুরাবাদ এলাকা থেকে ৬১ লাখ টাকা মূল্যের শাড়ি আটক করেছে।
