গল্প নয় সত্যি

ফুটবল উন্মাদনায় অসুস্থদের জন্য ক্লিনিক!

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২০:০৫
কথায় কথায় অনেকেই বলেন যে পুরো বিশ্ব এখন বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে। কিন্তু তাই বলে সত্যি সত্যিই যদি কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের জ্বর কিংবা বিশ্বকাপজনিত রোগের চিকিত্সায় আলাদা বিভাগ খুলে বসেন তাহলে সেটি সংবাদ শিরোনাম হবার মতোই। আর এ কাজটিই সম্প্রতি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শিচুয়ান প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে। শহরটির বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ জনিত অসুস্থতা নিরাময়ে একাধিক ক্লিনিক খোলা হলেও প্রথম ক্লিনিকটি খোলা হয়েছিল চেংডু শহরে। ইতোমধ্যে এই ক্লিনিকটি থেকে খেলা দেখা ও খেলার উত্তেজনায় আক্রান্ত রোগীদেরকে চোখে ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি ও ঘুমের অভাবের মতো নানা রোগে চিকিত্সা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাজিলের সাথে সময়ের পার্থক্যের কারণে এই প্রদেশের অধিকাংশ মানুষকেই গভীর রাতে খেলা দেখার জন্য টিভির সামনে বসতে হচ্ছে। আর এ কারণে ঘুমের অসুবিধা, পেটের মাংসপেশির অসুবিধা, ক্ষুধামন্দা, হাইপার টেনশন ও প্যারানয়ার মতো নানা রোগে ভুগছেন রাত জেগে খেলা দেখা ফুটবল প্রেমীরা। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ঘুমের এই অনিয়ম ও প্রিয় দলকে সমর্থনের উত্তেজনা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া ও হিস্টেরিয়ার মতো সমস্যাও তৈরি করে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপ ক্লিনিকে কাজ করা ডাক্তাররা। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রোগীদের জন্য এই সেবা অব্যাহত থাকবে বলেও জানয়েছেন এই ডাক্তারেরা। এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই ক্লিনিকগুলোর সেবায় যার পর নাই সন্তুষ্ট ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা। এদেরই একজন স্থানীয় একটি কার গ্যারেজের মেকানিক ও ৩৫ বছর বয়সী ওয়াং ফু ওং বলেন, ‘উরুগুয়ে আর ইতালির খেলার দিন সুয়ারেজের খেলা দেখে আমি খুবই অস্বস্তি বোধ করছিলাম। খেলার পর থেকে আমি ভালোভাবে খেতে পারছিলাম না, কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছিলাম না এবং ইতালির হারে সবকিছুই আমার কাছে শূন্য বলে মনে হচ্ছিল। এরপর আমি ক্লিনিকে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে দু’দিন চিকিত্সা সেবা নেই এবং তাদেরই পরামর্শে আমি এখন প্রতি দু’দিন পর পর খেলা দেখছি। অন্যদিকে ফু ওং’কে চিকিত্সা দেওয়া এক ডাক্তার বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। তবে সেই সাথে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে ফুটবল উন্মাদনা মানুষকে নানা রকম অসুস্থতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।