বসতঘরের পাশেই বিদ্যুতের খুঁটি। সর্বত্র বিদ্যুত্ সরবরাহ হচ্ছে। অথচ বিদ্যুতের খুঁটির নিচের বাসিন্দারা বছরের পর বছর অন্ধকারে বসবাস করছে। মামলা জটিলতায় ১০ বছর কেটে গেলেও বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের দু’ শতাধিক বাড়ি বিদ্যুত্ পায়নি।
আব্দুল হালিম জানান, নেয়ামতি ইউনিয়নের আব্দুস ছাত্তার তার জমিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতার আগে তাকে নোটিস দেয়া হয়নি অভিযোগ এনে মামলা করেন। পল্লী বিদ্যুত্ অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো জমিতে খুঁটি পোঁতার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট মালিককে নোটিস দিতে হবে। উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই অধ্যাদেশ মেনে চলার জন্য।
রঘুনাথপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, ২০০৩ সালে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির মাধ্যমে তাদের গ্রামে বিদ্যুত্ আসে। আনন্দে গ্রামের বাসিন্দারা ঘরে বিদ্যুত্ জ্বালানোর জন্য সকল সরঞ্জামাদি লাগিয়ে লাইট-ফ্যান যুক্ত করেন। পরে মামলার কারণে তাদের বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক আব্দুল হালিম জানান, বরিশাল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ ছোট রঘুনাথপুর গ্রামে বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য ৪ কিলোমিটার লাইন স্থাপন করে। গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যুতের গ্রাহক হওয়ার জন্য মিটার স্থাপন করার জন্য সাড়ে ৩’শ টাকা জমা দিয়ে তালিকাভুক্ত হন। ২০৩টি পরিবার মিটারের জন্য টাকা জমা দেন। বাকি আরো বাড়ি-ঘরের লোকজন মিটারের টাকা জমা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা সকলেই তত্কালীন সময়ে ঘরে বৈদ্যুতিক ওয়ারিং করা বাবদ দেড় থেকে দু’হাজার টাকা খরচ করেন।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মোবারক উল্লাহ জানান, সংযোগ প্রদান নিয়ে কোনো মামলা আছে কি-না তা তার জানা নেই। আর পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতার ক্ষেত্রে জমির মালিকদের নোটিস দেয়া হয় এমন আইনও তিনি জানেন না। তাই নোটিস দিয়ে কোথাও খুঁটি পুঁতে তিনি বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছেন না।
