বগুড়ায় যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে অপহূত যুবক উদ্ধার

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
৩ যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেফতার ৪ বগুড়ায় মুক্তিপণের দাবিতে অপহূত যুবককে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ এক তরুণী ও তিন যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বগুড়া শহরের ১৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি ঝন্টু প্রামাণিকের বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে অপহূত ঐ যুবককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যুবলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। জানা গেছে, নাটোর জেলার সিংড়া থানার ছাতার দীঘি গ্রামের আহসান আলীর ছেলে জুয়েল (৩৩) শুক্রবার সকালে পারিবারিক কেনাকাটার জন্য ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বগুড়া শহরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জুয়েল বগুড়া শহরের অদূরে শাকপালা বাস স্ট্যান্ডে বাস থেকে নামে। তিনি সেখানে রিকশার জন্য অপেক্ষা করাকালে পলি নামের সুন্দরী এক তরুণী তার সাথে বিভিন্ন কথাবার্তা শুরু করে। এসময় যুবলীগ নেতা ঝন্টুর নেতৃত্বে ৬-৭ জন যুবক তিনটি মোটরসাইকেলে ঐ তরুণীসহ জুয়েলকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে দু’জনকেই মোটর সাইকেলে উঠিয়ে শহরের ফুলতলায় ঝন্টুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জুয়েলের হাত-পা বেঁধে রেখে তার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। সেখানেই জুয়েল বুঝতে পারে ঐ তরুণী অপহরণকারী দলের সদস্য। তাকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যেই কৌশলে ঐ তরুণী তার সাথে কথাবার্তা বলে। এরপর জুয়েলের মোবাইল ফোন দিয়ে অপহরণকারীরা তার বড় ভাই রাকিব উদ্দিন রানাকে ফোন করে জানায় তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে। এক লাখ টাকা সন্ধ্যার মধ্যে দিলে জুয়েলকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় লাশ নিয়ে যেতে হবে। জুয়েলের বড় ভাই দুপুরের দিকে বগুড়া শহরে আসে এবং গোয়েন্দা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা রানাকে জানায়, সন্ধ্যার পর শহরের ফুলদীঘি এলাকায় পেপসি কোম্পানীর সামনে তাদের লোকের হাতে একলাখ টাকা দিলে জুয়েলকে মুক্তি দেয়া হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ অপহূতের ভাইকে সাথে নিয়ে পেপসি কোম্পানির সামনে অবস্থান নেয়। সাড়ে ৭টার দিকে হাসান সাঈদ নিপু (৩২) নামের এক যুবক সেখানে টাকা নিতে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত ৮টায় শহরের ফুলদীঘি এলাকায় যুবলীগ নেতা ঝন্টুর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহূত জুয়েলকে পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ঝন্টু পালিয়ে গেলেও পুলিশ গ্রেফতার করে পলি বেগম (২২), হান্নান (২৮) এবং সেলিম রেজাকে (২৮)। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন আসামিরা সকলেই যুবলীগের নেতাকর্মী। তারা সুন্দরী ঐ তরুণীকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে জুয়েলকে অপহরণ করেছিল। এ ঘটনায় বগুড়া শাজাহানপুর থানায় গ্রেফতারকৃত ৪ জন ছাড়াও ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।