জামালপুরে ১৭৩টি স্কুল ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:০৫
জামালপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জীবনহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১১টি বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত করার পরও ১৭৩টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনাসহ শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতির হার আগের তুলনায় দিন দিন কমে যাচ্ছে। জামালপুর ৭টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার ৫০টি, ইসলামপুর ৫১টি, মাদারগঞ্জের ২৪টি, সরিষাবাড়ীর ২২টি, দেওয়ানগঞ্জের ১৯টি, বকসিগঞ্জের ১৭টি এবং মেলান্দহ উপজেলার ১টিসহ মোট ১৮৪টি ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ ঝুকিঁপূর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে সদর উপজেলার পিঙ্গলহাটি, হালুয়া রাজারহাট, কম্পুপুর, জাফরশাহী, ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিম কান্দারচর, ডেবরাইপ্যাঁচ, কাছিমারচর কান্দাপাড়া, পূর্বগামারিয়া, মাদারগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর, সরিষাবাড়ী উপজেলার কবলিবাড়ী ও বসনিয়াসহ মোট ১১টি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন যাবত্ ওইসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ না করায় হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবনে লেখাপড়া করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় শত শত শিশুর প্রাণহানি ঘটে যেতে পারে। ইসলামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, স্কুলের ঘরটি গত ৩ বছর যাবত্ চালা ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে, পুনঃনির্মাণ করার আলামত নেই। বাধ্য হয়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ছোট্ট একটি ঘরে গাদাগাদি করে বসে লেখাপড়া করছে। এদিকে নদী ভাঙন, বন্যা কবলিত জামালপুর জেলায় শিক্ষার হার ৪৭ ভাগ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে রয়েছে মাত্র ৩৪ ভাগ। এর মূল কারণ চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গন, বিদ্যালয় ভবন, বসার বেঞ্চ আসবাবপত্রের অভাবে জামালপুর সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, ইতিমধ্যে ৩টি টিনসেড প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ এসেছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে আসবে।