গোদাগাড়ীতে জাপানের সহায়তায় তিনটি মডেল গ্রাম হচ্ছে

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:০৬
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তিনটি মডেল গ্রাম গড়ে তুলবে জাপানের একটি সংস্থা। গ্রাম তিনটি হচ্ছে উপজেলার পোতাহার, পালশা ও দুবিপাড়া। গ্রাম তিনটিতে বসবাসকারী ৫৪০টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পোতাহার, পালশা, ও দুবিপাড়া গ্রামে কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। গ্রামগুলোতে বিদ্যুত্ না থাকায় রাতে আলোর অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই পরিবারগুলোতে। খরায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় লোকজন। বর্ষা মৌসৃুমে পানি কাদায় কাঁচা রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। কিন্তু গ্রাম তিনটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। গ্রাম তিনটিতে পৌঁছে যাবে বিদ্যুত্। উন্নতমানের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকবে। সমবায় প্রথা চালু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষ করা হবে। উত্পাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য গড়ে তোলা হবে কৃষি মার্কেট। গ্রাম তিনটিকে মডেল হিসেবে বাস্তবে রূপ দিতে আগামী জুলাই মাস থেকে কাজ শুরু হবে। মডেল ভিলেজ নামে প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারনেশন কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (জেআইসিএফ)। আর প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা সার্স। প্রকল্পের সার্বিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের প্রধান ও জাপানের কিয়াটো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাকোতো কিমুরা বলেন, অত্যন্ত কম খরচে মডেল ভিলেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে পাকা রাস্তাসহ অবকাঠামো নির্মাণে উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হবে। রাস্তা ও নির্মিত অবকাঠামোগুলো অত্যন্ত টেকসই হওয়ার কারণে বর্ষায় নষ্ট হবে না। রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ হোসেন বলেন, গোদাগাড়ীর তিনটি গ্রামে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।