ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত বর্তমানের বিশ্ব। ৩২ দলের লড়াইয়ে অংশ নেয়া ৭৩৬ জন যোদ্ধা এখন লড়ছে ব্রাজিলে। ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে শুধু দল বা খেলোয়াড়রাই আলোচনায় আসছেন না, গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছেন তাদের পরিবারও। খেলোয়াড়দের বান্ধবী এবং স্ত্রীদের ওপরও রয়েছে ক্যামেরার লেন্স। সে তালিকায় সবার আগে আলোচনায় আসে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির সঙ্গী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জোর নাম। সারা বিশ্বের কোটি মানুষের প্রিয় খেলোয়াড়ের হূদয়ে বসে আছেন কে তা জানতে সবারই আগ্রহ প্রবল। যার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ বিশ্ব তার হূদয়ে ঠাঁই পেতে চাইবেন কোটি তরুণী। তবে বিশ্বের ধনী খেলোয়াড়দের একজন মেসির হূদয়ে বসেছেন যিনি তিনি ছোটবেলার খেলার সঙ্গী। খেলোয়াড়-সেলিব্রেটিরা যেখানে বিশ্ব সুন্দরী বা মডেলদের বেছে নেন সেখানে মেসি ব্যতিক্রম। শৈশবে দেয়া প্রতিশ্রুতি রেখে তিনি জন্মস্থান রোজারিওতে ছোটবেলায় ফেলে আসা সঙ্গী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জোকেই বেছে নেন। শোবিজ তারকা নন, তবে রূপে-সৌন্দর্য্যে কোনো অংশেই কম না নেইমার-রোনালদোদের মডেল সঙ্গীর চেয়ে। প্রথমে সবার ধারণা ছিলো পাশের বাড়ির তরুণী ম্যাকারেনা লেমোসই মেসির অন্তর জুড়ে। কথা ছড়িয়েছিলো স্বদেশি মডেল লুসিয়ানাকে নিয়েও। তবে ২০০৯ সালে এসে সবার সামনে পরিষ্কার হয় আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরার মন জুড়ে কার অবস্থান। জানুয়ারিতে এসে এক প্রোগ্রামে মেসি ঘোষণা দেন, ‘তার গার্লফ্রেন্ড আছে এবং সে আর্জেন্টাইন। আমি তার সাথে দারুণ সুখী’।
ক্রিসমাসে বার্সেলোনার একটি অনুষ্ঠানে সেবার মেসির সঙ্গী হন অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জো। পরে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে যায় অবকাশ যাপনে দু’জনের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে। পরে তারা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে পুষ্টি বিজ্ঞানের ছাত্রী রোকুজ্জো। রোকুজ্জো ছিলেন মেসির সবচেয়ে কাছের বন্ধু লুকাসের চাচাতো বোন। ক্লাস ফাইভে তার সাথে পরিচয় হয় মেসির। ২০১০ সালে দু’জনের এনগেজমেন্ট হয়। ২০১২ সালের ২ নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বাবা-মা হন মেসি-রোকুজ্জো। ছেলের নাম রাখেন থিয়াগো। দু’জনের বিয়ে হয়েছে, এমন একটা গুঞ্জন গতবছর শোনা গেলেও বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে দু’জনের পরস্পরের প্রতি হূদয়ের টান যেকোনো মানুষের জন্য ঈর্ষার কারণ হবে নিঃসন্দেহে। ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে ঠিকই হাজির হচ্ছেন নিয়মিত রোকুজ্জো। আর মাঝে মাঝেই কৌতূহলী মানুষ খুঁজে বের করছে তাদের ভালোবাসার রসায়ন।
