রাজশাহী মহানগরী যানজটের কবলে

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:৩৯
আজ সোমবার শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা ব্যস্ততা ভর করেছে রাজশাহী নগরবাসীকে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বাজারে। ফলে রবিবার সকাল থেকে নগরীর কেন্দ্রস্থলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যার আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার কর্মসূচী নগরীতে চলমান যানজটে অতিমাত্রা যোগ করে। সরেজমিনে দেখা যায়, সাহেববাজার ও সংলগ্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সংযোগ সড়ক পর্যন্ত যানজট লেগেই রয়েছে। সকালের দিকে যানজট কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে তা তীব্র আকার ধারণ করে। সন্ধ্যায় গোটা সাহেব বাজার এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বাইরে থেকে কেনাকাটার জন্য আসা লোকজন চরম দুর্ভোগের কবলে পড়ে। নগরীতে যানজটের সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ফেরিওয়ালাদের ফুটপাত দখল। সকাল ১০টা থেকে নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে সৃষ্ট যানজটে নাকাল নগরবাসী। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। অন্যদিকে নগরীর প্রধান মার্কেট ও বিপণী বিতানের সামনে যানজটের অবস্থা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। বিশেষ করে আলুপট্টি থেকে মনিরচত্বর পর্যন্ত রাস্তায় সকাল থেকে দুর্ভোগ লেগে ছিল। ভুক্তভোগীদের মতে, নগরীতে তীব্র যানজটের মূল কারণ সাহেব বাজার ও সংলগ্ন এলাকাকেন্দ্রিক মার্কেট ও বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কারণ একমাত্র সাহেব বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে আধুনিক মার্কেট ও বিপণী বিতান গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে মানসম্মত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এজন্য নগরী ও বাইরে থেকে আসা লোকজন কেনাকাটার জন্য সাহেব বাজার এলাকাকেই বেছে নেয়। কিন্তু ঐসব মার্কেট ও বিপণী বিতানের ক্রেতাদের গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বিভিন্ন মার্কেটের সামনের রাস্তার ওপরেই বিশৃংখলভাবে কার-জীপসহ অন্য যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চাপ। এদের নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের গলঘর্ম অবস্থা। ‘রিকশার নগরী’ খ্যাত রাজশাহীতে পাঁচ বছর আগেও রিকশাই ছিল মূল বাহন। এরপর থেকে বাড়ছে প্রাইভেট যানবাহনের সংখ্যা। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) জনসংযোগ সেলের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে লাইসেন্সকৃত রিকশার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের জন্য ভাসমান রিক্সা মিলিয়ে উক্ত সংখ্যা ৩০ হাজার অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরো প্রায় ১৫ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এই যানের সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে আরো ১০/১৫টি করে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া নগরীতে চলছে গ্যাসচালিত হিউম্যান হলার। এর সংখ্যাও তিন হাজারের ঊর্ধ্বে বলে জানা গেছে। প্রাইভেট কার, মিনিবাস, সিএনজি, টেম্পু, মিশুক তো রয়েছেই। তবে অবাক ব্যাপার হলো ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী মহানগরীতে এখনো টাউন সার্ভিস বাস চালুই হয়নি। জনসংখ্যা ও যানবাহন বাড়লেও নগরীর আয়তন ও সড়কের দৈর্ঘ্য বাড়েনি। বিদ্যমান সড়কগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে প্রধান সড়কে যানজট যেন নিত্যসঙ্গী। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) সুশান্ত চন্দ্র বলেন, নগরবাসীকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিং করতে না দিয়ে বাজারের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া সাহেব বাজার ও মণিচত্বরসহ বেশকিছু এলাকায় সড়কের আড়াআড়ি চলাচল ও ইউটার্ন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট ও মনিচত্বর এলাকায় পূর্বের অস্থায়ী ডিভাইডার সরিয়ে স্থায়ী ও নতুন ডিভাইডার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রমজানে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিন শেষে বড় অঙ্কের টাকা মার্কেট থেকে নেয়া অথবা ব্যাংক থেকে নেয়ার সময় সংশ্লিষ্টরা চাইলে পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে বলেও জানান তিনি।