রাজধানীর মতিঝিলে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এরা হলেন রজমান আলী (৩৪) ও জাকির হোসেন আকমল ওরফে রাজু (৩৫)। শনিবার গভীর রাতে মতিঝিল টিএন্ডটি স্কুল এ্যান্ড স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবী নিহতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। এদের মধ্যে রমজানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৫টি ও জাকিরের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি মোটর সাইকেল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবী তারা সায়েদাবাদ পরিবহন শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে।
অপরদিকে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কৃত করেছেন। গতকাল রবিবার ডিএমপি সদর দফতরে মাসিক অপরাধ বৈঠকে ডিএমপি কমিশনার এ পুরস্কার প্রদান করেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পুর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতব্বর জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অবৈধ মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম মতিঝিল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। রাত পৌনে তিনটার দিকে মতিঝিল টিএন্ডটি স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে দুইটি মোটর সাইকেলে ৬ যুবককে সন্দেহজনক ঘুরতে দেখে ডিবি টিম তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালাবার চেষ্টা করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এসময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ধরা পড়েন রজমান ও জাকির। অন্যরা গুলিবিদ্ধ হলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আহতদেরকে (অজ্ঞাত হিসাবে) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়া চার জনকে গ্রেফতারে বিভিন্ন ক্লিনিকে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, নিহত রমজানের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে একই অভিযোগে জাকিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা।
নিহত জাকির হোসেনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী পেশায় বাস চালক। সায়েদাবাদে পরিবহন শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা বা জিডি নেই। প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করে ছিনতাইকারী বানিয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার কাউখালী। ঢাকায় তারা ডেমরায় থাকেন।
তিনি বলেন, জাকির হোসেন শনিবার রাতে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। গতকাল টেলিভিশনে খবর দেখে দুপুরে মর্গে গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন রজমানের স্ত্রী নুসরাত জাহান ঝর্না। তিনি জানিয়েছেন, রমজান সায়েদাবাদে পরিবহন শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পালাম। বাসা গোপীবাগের কে এম দাশ লেনে। শনিবার রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি। গতকাল মর্গে লাশ সনাক্ত করেন। ঝর্না বেগমের অভিযোগ অভ্যান্তরীন কোন্দলের জের ধরে আবুল খায়ের, খোকন, রাজুসহ কয়েকজন ডিবি পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর কোন থানায় জিডি বা কোন মামলা ছিল না। ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বিকালে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
