রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রবিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জীবনযাত্রা। মোটর শ্রমিকদের আকস্মিক ধর্মঘটের ফলে রোজার প্রথম দিনেই আটকা পড়া শত শত যাত্রী রাতে সেহেরী খেতে না পেয়ে রোজা রাখতে পারেননি। এদিকে প্রশাসনের আশ্বাসে সোমবার দুপুরের পর ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করে মোটর শ্রমিকরা।
জানা যায়, শ্রমিকদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রবিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের ডাক দিয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় এলোপাতাড়ি ট্রাক-বাস রেখে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এক ভীতির সৃষ্টি করে। রংপুর-পীরগাছা সড়কে অটোচালকদের সাথে মোটর শ্রমিকদের কথা কাটাকাটির জের ধরে অটোচালকরা এক বাস চালককে মারপিট করে। এ ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতার নেতৃত্বে শ্রমিকরা মাহিগঞ্জ আমতলা এলাকায় জমায়েত হন। রাত ১২ টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। লাঠিচার্জে ১০ শ্রমিক আহত হন।
এদিকে, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দুপুরের পর রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করা হল। এ সময়ের মধ্যে যদি দোষী পুলিশসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে আবারও ধর্মঘট শুরু করা হবে।
