ইরাকে আরো ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এদিকে, হোয়াইট হাউজ বলেছে, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএস) নামের সুন্নি বিদ্রোহীদের সংগঠনটি ইরাককে ধ্বংস করছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রক্ষার জন্য আরো ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর কথা বলেছেন ওবামা। কংগ্রেসের কাছে লেখা এক চিঠিতে সিনেট নেতাকে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অবহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরাকে যখন সংকট বাড়ছে তখন নতুন করে এ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়া হলো।
ইরাকে যেসব সেনা পাঠানো হবে তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী, আড়াআড়িভাবে উড়তে ও নামতে সক্ষম রোটারি-উইং বিমান এবং গোয়েন্দা ও টহল কাজে সহায়তাদানের বিষয়গুলো থাকবে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আকাশে এরই মধ্যে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি অস্ত্রবাহী চালকহীন মার্কিন বিমান বা ড্রোন টহল দিতে শুরু করেছে। বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগণের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, আইএসআইএস নামে পরিচিত ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী ইরাককে ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও সিরিয়ার দখলকৃত অংশে আইএসআইএস’র ইসলামি রাষ্ট্র ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার এ অভিযোগ করে হোয়াইট হাউজ। এ সময় ইরাক সরকারকে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে পশ্চিমা পরাশক্তিটি।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট বলেন, ‘এটি সন্ত্রাসের প্রচারণা বা সহিংসতার স্থূল নমুনা এবং চরম নিয়ন্ত্রণবাদী ধ্যান-ধারণা যা ইরাকের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি। আইএসআইএল ইরাককে ধ্বংস করার জন্য লড়াই করছে।’ ‘ইরাকের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য সবাইকে নিয়ে একটি বহুমুখী সরকার গঠনে’ ব্যর্থতার জন্য তিনি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অস্তিত্বের এই হুমকি’ মোকাবিলার জন্য ওয়াশিংটন মালিকি সরকারসহ ইরাকের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একটি বহুমুখী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ইরাকের পরবর্তী সরকারের তিনটি শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদ- পার্লামেন্টের স্পিকার, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আর্নেস্ট বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ১ জুলাই নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে তারা সরকার গঠনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি আমরা।’ তিনি আরো বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইরাককে এফ-১৬ বিমান দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই শরতেই দুটি বিমানের প্রথম চালানটি পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ইরাকে ৩০০ সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই দেশটিতে পৌঁছে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
