লাকসামে মেডিক্যাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ড্রেন নদী খালে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:২৬
কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরে ছোট-বড় ১৮টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠলেও সমন্বিত চিকিত্সা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। চিকিত্সা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিধিমালা-২০০৮ কার্যকর থাকলেও শহরের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো তা মানছে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে নীরব। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, লাকসামের অনেক ক্লিনিকের আধুনিক হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কিছু ব্যয় কমানোর জন্য তা পরিহার করা হয়। ফলে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিত্সা বর্জ্যের সংস্পর্শে নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের চিকিত্সা বর্জ্যগুলো সরাসরি পৌরসভার ডাস্টবিন কিংবা পার্শ্ববর্তী নদী-খাল ও ড্রেনসহ খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়লেও তা দেখার কেউ নেই। হাসপাতালের বর্জ্য অন্যান্য সাধারণ বর্জ্যের মত নয়। এই বর্জ্য থেকে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে বিধায় তা আলাদা আলাদা পাত্রে সংরক্ষণ ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধান কেউ পালন করছে না। হাসপাতাল-ক্লিনিকে ব্যবহূত সুঁচ, সিরিঞ্জ, রক্ত ও পুজযুক্ত তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অংশ বিশেষ, টিউমার, ওষুধের শিশি, রক্তের ব্যাগ, ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য প্রতিদিন যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে। চিকিত্সকদের মতে, গৃহস্থালি বর্জ্যের চেয়ে হাসপাতালের বর্জ্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যবহূত সিরিঞ্জ ও অন্যান্য তরল হাসপাতাল বর্জ্য নর্দমায়, ড্রেনে ফেলা মোটেই নিরাপদ নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা:সালাউদ্দিন জানান, লাকসামের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকরা সরকারি কোনো নিয়ম মানতে চায় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।