প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সামাজিক অবক্ষয়

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৩
সম্প্রতি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে পত্রপত্রিকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সমাজের প্রতিটি সচেতন এবং বিবেকবান মানুষ উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারে না। কিন্তু ঘটনাটা অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে পৃথক কিছু নয়। কোনো সমাজ কাঠামো গড়ে ওঠে মৌল কাঠামো এবং উপরি কাঠামোর সমন্বয়ে। একটি অনৈতিক অর্থনৈতিক কাঠামো একটি অনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়। বিদ্যমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ভোগবাদী সংস্কৃতি সমাজের সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করেছে। মানুষের জীবনের লক্ষ্য এখন high living and plain thinking । কিন্তু যে বিত্ত-বৈভবপূর্ণ জীবনযাত্রার জন্য মানুষ ধাবমান তা সকলের আয়ত্তের মধ্যে নেই। এজন্য মানুষ বেছে নেয় দুর্নীতি। শিক্ষার অর্থ এখন আর শুধু জ্ঞানার্জন নয়। শিক্ষা এখন চাকরি, পদ-পদবি ইত্যাদি লাভের প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে বিত্ত-বৈভব অর্জনের সম্ভাবনা থাকায় মানুষ এখন শিক্ষার অর্থকরী দিকটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তাই আমাদের সমাজে বিজ্ঞান বা কলার চেয়ে ব্যবসা শিক্ষার হার বেশি। মহত্ লক্ষ্য না থাকলে ওপরে ওঠার দৌড় মানুষকে অনৈতিক করে ফেলে। শিক্ষার লক্ষ্য যখন চাকরি পাওয়া আর চাকরি পেলে পদ-পদবির সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ পথে উপার্জনও করা যাবে, তখন সহজপথে কার্যসিদ্ধির অন্যতম উপায় হচ্ছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে গর্হিত। কারণ এই প্রক্রিয়ায় পরিশ্রমী মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়। আরেকটা খারাপ দিক হলো এর মাধ্যমে সমাজে অন্যায়, অসততা প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু আমরা যতদিন পর্যন্ত অন্য অবক্ষয়গুলো রোধ করতে না পারবো, শিক্ষাকে ওপরে ওঠার সোপান না ভেবে প্রকৃত জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়ায় পরিণত করতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত সমাজ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধগুলো পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। ঢাকা