মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ও জনগণের ভোগান্তি

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৩
ঢাকার জনসংখ্যা এক কোটি ৬৩ লাখ, ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় এক লাখের ওপর লোকের বাস। সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ঘনত্বের দিক দিয়ে ঢাকার জনসংখ্যা প্রথম ও জনসংখ্যার বিচারে ১৬তম। এমন মেট্রোপলিটন সিটিতে জনগণকে যানজট থেকে রেহাই দিতে সরকার ফ্লাইওভার নির্মাণে মনোযোগ দেবে এমনটাই প্রত্যাশা। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মগবাজার-মৌচাক-ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন। তিনি ঘোষণা দেন, ২০১৫ সালের মধ্যে এই ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শেষ হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মগবাজার-মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর ও কাকরাইল। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি লাখ লাখ লোকের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। রাজধানীর বহু স্কুল-কলেজ এই এলাকায় হওয়ায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর কষ্টের সীমা নেই। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ব্যস্ত এই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের গতি খুবই শ্লথ। এদিকে প্রধান প্রধান সড়কের জায়গায় জায়গায় পাইলিং, পানির পাইপ লাইন খোঁড়াখুঁড়ি, ম্যানহোলের উপরিভাগ উন্মুক্ত করায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। উপরন্তু সমপ্রতি টানা বৃষ্টির পানিতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাসহ মগবাজার-মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইলে জলজটে পড়ে মানুষ দিশেহারা। যানজটে আক্রান্ত রাজধানীবাসীর এমনিতেই অশান্তির শেষ নেই, তার ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের শ্লথগতি ও নানা গাফিলতি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই— ১। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুতগতিতে শেষ করতে হবে। জনগণের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেজন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা অধিক লোকের মাধ্যমে কাজ শেষ করার সুপারিশ করছি। এতে করে যানজটের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে। ২। যেসব পানির বা গ্যাস লাইনের জায়গায় কাটা হচ্ছে তা পুনঃমেরামত করে প্রধান রাস্তার গর্ত দ্রুত ভরাট করে বড়জোর এক সপ্তাহের মধ্যে যান চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। কোনোক্রমেই পাইপ লাইন কেটে মাসের পর মাস ফেলে রাখা যাবে না। প্রয়োজনে আবার পানির বা গ্যাস পাইপ লাইনের মাটি কাটা যেতে পারে এবং তা পুনঃমেরামত করে মেইন রাস্তার ওপর কাজ করতে হবে। অন্যথায় রাজধানীবাসীর কষ্টের লাঘব হবে না। ঢাকা