উত্পাদন কমায় দাম বেড়েছে সবজির!

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৬
বৈরী আবহাওয়ার জন্য উত্পাদন কমায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেগুনসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে। দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উত্পাদনকারী এই এলাকায় সারা বছরই নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। সবজির হাটগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ফলে এখানে সবজির দাম বাড়লে তার প্রভাব সারাদেশেই পড়ে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৮ হাজার ৪৯৩ হেক্টরে গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষ হয়েছে। যশোরের হৈবতপুর গ্রামের সবজি চাষি ইজাজুল ইসলাম জানান, এ বছর খরার কারণে অনেক বেগুন গাছ মরে যাওয়ায় বেগুনের উত্পাদন এমনিতেই কম হচ্ছিল। তারপর টানা বৃষ্টির জন্য বেগুনের ফুল পচে যায়। এতে ফল কম ধরছে। যে জন্য বেগুনের উত্পাদন কম হচ্ছে। তাছাড়া হঠাত্ করে ক্ষেতের তরতাজা বেগুন গাছ মরে গেছে। চাষিদের কাছে এ রোগ ’স্ট্রোক’ বলে পরিচিত। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, বেগুন ক্ষেতের এ রোগের নাম ‘ফিউজিরিয়াম উইল্ট’। এটি এক ধরনের ‘ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ’। চাষিরা জানান, এবার গরম ও পরপরই বৃষ্টির জন্য পটল গাছ পচে গেছে। ফুলও নষ্ট হয়েছে। যে কারণে পটলের উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া মৌসুমের শেষ দিকে উচ্ছে বা করলার উত্পাদন কম হয়ে থাকে। ঢেঁড়স বা ভেন্ডিও বৃষ্টির কারণে কম ধরছে। ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গার উত্পাদনও বৈরী আবহাওয়ার জন্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে বাজারে এসব সবজিরও সরবরাহ কমে গেছে। এদিকে কাঁচা মরিচের গাছ পুরান হয়ে যাওয়ায় নানা রোগ ধরেছে। এজন্য ফল কম ধরছে। বাজারে সরবরাহ কম হচ্ছে। নতুন লাগানো বেগুন - মরিচ গাছে ফল ধরা শুরু করলে দাম পড়ে যাবে বলে চাষিরা জানান। এ ব্যাপারে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, প্রকৃতির উপর মানুষের হাত নেই। বৃষ্টির কারণে ফুল পচে যাওয়ায় ফল কম ধরছে। কয়েক দিন টানা রোদ হলে সব ধরনের সবজির উত্পাদন ফের বেড়ে যাবে। তখন দাম কমবে বলে তিনি জানান।