বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই জন বিধায়ক এবং চারটি পৌরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রায় ৬০ জন কাউন্সিলর। এর ফলে চারটি পৌরসভা হাতছাড়া হয়ে গেছে তৃণমূলের। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তৃণমূলের নেতারা। এ সময় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রাজ্যের নেতা মুকুল রায়-সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারাই বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল।
কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৪০ বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আজ সেই দলবদলের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ হলো। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই বিজেপিতে আসতে চাইছেন। আগামী দিনে আরো অনেকেই বিজেপিতে আসছেন।
মুকুল রায় বলেন, আগামী বিধানসভার নির্বাচনে বিরোধী দলের পরিচয়ও থাকবে না তৃণমূলের। আমি ভোটের আগেই বলেছিলাম, সবাই তৃণমূলে থাকবে, কিন্তু ভোট করবে বিজেপির হয়ে। বাংলার মানুষ যতক্ষণ না তাকে ক্ষমতা থেকে সরাবেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চেয়ার ছেড়ে কোথাও যাবেন না। গতকাল বিজেপিতে যোগ দেন, বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য, হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন্দ্র রায়। উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালে তারা মাত্র ২টিতে জয়লাভ করেছিল। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২২টি আসন। এই জয়ের ফলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করে তা সিপিএমকে ফিরিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। বলা হচ্ছে, ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় সিপিএমের দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বানানো হয়েছিল। গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে এমন অনেক কার্যালয় বিজেপি দখল করেছে। সেগুলোতে সাদা রঙ করে সিপিএম’কে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টি কার্যালয় তৃণমূলের দখল মুক্ত করা হয়।
মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন মমতা
আগামী ৩০ মে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন নরেন্দ্র মোদি। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মমতা ব্যানার্জিও। সংবাদ সংস্থা এএনআই’র বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মোদির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চেষ্টা করবেন মমতা। তিনি বলেন, অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। শপথের অনুষ্ঠান একটি আনুষ্ঠানিকতা। আমাদের কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যেগুলো পূরণের চেষ্টা করতে হয়। তাই আমরা চেষ্টা করবো ওই অনুষ্ঠানে থাকতে। মোদির শপথ অনুষ্ঠানে, বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ব্যাপক বাগযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন।
