পথে চলতে সাবধান

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:০৩
গায়ের রঙ গাঢ় শ্যামলা। রোদে পোড়া একহারা গড়ন। মাথায় ক্যাপ। হাতে অপ্রচলিত এবং পুরোনো সংবাদপত্রের কিছু কপি। সোনারগাঁও ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্ট থেকে তেজতুরিবাজার ফুটওভারব্রিজ পর্যন্ত তার কর্মস্থল। ফার্মগেট থেকে সোনারগাঁও রোডের কাওরানবাজার অংশে তার অবস্থান। অফিস আওয়ারে আমার প্রতিদিনের চলাচলের পথও এটি। ট্রাফিক সিগনাল বাতি লাল হলেই শুরু হয় তার কার্যক্রম। দৃষ্টি স্থির থাকে থেমে থাকা বাস-মিনিবাসের জানালার দিকে। দৈনিক পত্রিকা বিক্রির ছলে আসল কাজ হাত সাফাই। চোখের সামনে একদিন ঘটনাটা ঘটলো। গাড়ি ড্রাইভ করে যাচ্ছি কাঁটাবন। আমার গাড়ি ওয়াসা অফিসের কাছাকাছি আসতেই সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে লাল বাতিতে থামতে হলো। তখনই প্রথম চোখে পড়লো তাকে। তার ইতিউতি চাহনিতে কিছু একটা ছিল। আমার দৃষ্টি আটকে গেলো। খেয়াল রাখলাম ওর দিকে, যতক্ষণ সম্ভব। আমার গাড়ির পাশ দিয়ে থেমে থাকা যানবাহনের ফাঁক গলে এগিয়ে যাচ্ছে ফার্মগেটের দিকে। ততক্ষণে সিগনাল বাতি সবুজ হয়ে গেছে। থেমে থাকা গাড়িগুলো চলতে শুরু করেছে। ধীরে চলমান একটা মিনিবাসের দিকে এগিয়ে গেলো। অল্প বয়সী একটা মেয়ে জানালায় হাত রেখে রোদ আড়াল করার চেষ্টারত। মুহূর্তে ছোঁ মেরে মেয়েটার হাতে থাকা মোবাইলটা নিয়ে সে ধীর লয়ে ফার্মগেটের দিকে এগিয়ে গেলো। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, যেন কিছুই ঘটেনি। এর মাঝে শত শত গাড়ি সঙ্গে মিনিবাসটিও ছুটে চললো সোনারগাঁও ক্রসিং অভিমুখে। আমিও পিছন থেকে লাগাতার হর্নের শব্দে সামনে এগোলাম। মেয়েটির কষ্টের কথা আর জানা হলো না। তখন থেকে প্রায়ই তাকে একই রাস্তায় ঘুরঘুর করতে দেখছি। কয়েকবার আমার সঙ্গে চোখাচোখি হয়েছে। একদিন সামান্য কয়েকটি কথাও বলতে পেরেছি। ওকে সাবধান করে বলার চেষ্টা করেছি- আমি তোমার আসল কাহিনি জেনে গেছি, তুমি ভালো হয়ে যাও। অফিসে আসার পথে ওকে দেখি। আর ভাবি- আজ কার কী সাফাই করবে কে জানে? তাই পথে চলতে সাবধান...। সাহস রতন, তেজকুনিপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা