নওগাঁয় পতিত জমিতে মুগডাল চাষে সাফল্য

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:১৯
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৭০ হেক্টর অনাবাদী পতিত জমিতে মুগডাল চাষাবাদ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়ায় উপজেলার প্রায় ৫শ’ কৃষকের ভাগ্য খুলে গেছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে বাড়তি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। প্রায় ৮৪ মে:টন মুগডাল উত্পাদন হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করছে। জানা গেছে, নওগাঁ জেলার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী সাপাহার। খরা মৌসুমে এ উপজেলার হাজার হাজার বিঘায় পানি সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধান উত্পাদন না হওয়ায় অনাবাদী পতিত জমিতে পরিণত হয়। অনেক কৃষক আবার লাভের আশায় ওই জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করে আসছিল। পরপর কয়েক বছর ধরে আবহাওয়াজনিত কারণে তরমুজের ফলন বিপর্যয় হয়। ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিরা তরমুজ বাদ দিয়ে অল্প খরচে গম চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ে। ফলে এ উপজেলায় ব্যাপক হারে গমের চাষাবাদ শুরু হয়। গম কেটে নেয়ার পর ওই জমিগুলো প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস ধরে পতিত হয়ে পড়ে থাকে পানি অভাবে। উপজেলার হাজার হাজার এই পতিত জমি হতে কৃষকগণ কি ভাবে অল্প খরচে, অল্প সময়ে ফসল উত্পাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিঞা ও উপজেলা কৃষি অফিসার এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন। জয়পুর গ্রামের গোবিন্দ পাল জানান, গম মাড়াইয়ের পর আমন ধান চাষ শুরু আগে ৩ থেকে ৪ মাস জমি পড়ে থাকতো। এ সময় তরমুজ আবাদ করা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর থেকে আবহাওয়াজনিত কারণে তরমুজ চাষে তার ক্ষতি হয়। এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে ১০ বিঘা মুগডাল চাষ করতে মাত্র ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ইতোমধ্যে তিন বিঘার ডাল মাড়াই শেষে প্রায় ১১ মণ ডাল পেয়েছেন তিনি। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ ডাল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়ে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হবে। খঞ্জনপুর গ্রামের এমতাজ আলী ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের পেয়ার আলী জানান, আগে এ সময় এলাকার অনেকে জমি ফেলে রাখতেন। এ বছর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় তারা প্রথম মুগডাল চাষ করে সফল হয়েছেন। তারা আরো বলেন, সরকার আরো সহযোগিতা করলে এ এলাকার হাজার হাজার কৃষক মুগডাল চাষে এগিয়ে আসবে। উপজেলা কৃষি অফিসার এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার ৫শ’ কৃষকের মাঝে আড়াই হাজার কেজি মুগ ডালের বীজ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। এ ডাল চাষে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ডাল উত্পাদন খরচ হয় ৭শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা মাত্র। হিসাব করে দেখা গেছে খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হবে। এ বছর উত্পাদিত মুগডাল বীজ হিসেবে কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ করা হবে এবং আগামী বছর তা বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে মুগডাল চাষাবাদ আরো সম্প্রসারণ করা হবে।