বেসরকারির চেয়ে সরকারের ফার্নেস অয়েলের দাম বেশি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
বেসরকারির চেয়ে সরকারিভাবে আমদানিকৃত ফার্নেস ওয়েলের দাম বেশি হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতের দামের উপর। গ্রাহককে বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল বিক্রি করে ৬০ টাকায়। কিন্তু বেসরকারিভাবে সরবরাহকৃত ফার্নেস ওয়েলের দাম ৫৪ টাকা। প্রতি লিটারে পার্থক্য ৬ টাকা। বিপিসির ফার্নেস অয়েলের বাড়তি দামের কারণেই বিদ্যুত্ খাতে উত্পাদন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ( পিডিবি) চেয়ারম্যান মো: আব্দুহু রুহুল্লাহ গতকাল বুধবার ইত্তেফাককে বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্নেস অয়েল আমদানি করায় তাদের উত্পাদন খরচ কিছুটা কম পড়ে। বেসরকারি এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো যতটুকু বিদ্যুত্ উত্পাদন করে সে হিসেব করে তাদের ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। বিপিসি ফার্নেস অয়েলের দাম কমালে বিদ্যুতের উত্পাদন ব্যয় কমে যাবে। কিন্তু দাম কমানোর বিষয়ে তো আমাদের কিছু করার নেই। সরকার নির্ধারিত দামেই আমরা ফার্নেস অয়েল কিনে থাকি। পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে পিডিবির উত্পাদন ক্ষমতা ৭৯১ মেগাওয়াট। আইপিপির ২৯৭ ও ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা ৯১৭ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের ইউনিট প্রতি উত্পাদন ব্যয় গড়ে ১৭ দশমিক ৮৫, ১৭ দশমিক ৭৭ ও ১৭ দশমিক ৫৮ টাকা। বর্তমানে জাহাজভাড়াসহ প্রতি টন ফার্নেস অয়েল কিনতে বিপিসির ব্যয় হয় গড়ে ৬৪৮ ডলার। এ হিসাবে প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৪২ টাকা। প্রতি লিটারে ৬ থেকে ৭ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। সবমিলিয়ে লিটার প্রতি ব্যয় হয় ৫০ থেকে ৫২ টাকা। কিন্তু বিপিসি প্রতি লিটার ফার্নেস বিক্রি করে ৬০ টাকায়। সর্বশেষ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। অথচ বেসরকারিভাবে সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের দাম ৫৪ টাকা। বিপিসি থেকে ফার্নেস অয়েল ক্রয় করতে হলে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে হয়। সেইসাথে ‘সরকারের সাথে সরকারের ব্যবসা’ হওয়ার কারণে আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে বিপিসি। দেশে বিদ্যুত্ ঘাটতি মেটাতে সামপ্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুত উত্পাদনকারী বেশ কয়েকটি প্লান্ট বেসরকারিখাতে স্থাপিত হয়েছে। এবং অব্যাহতভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন করে চলেছে। তবে চুক্তিবদ্ধ শর্ত মোতাবেক বিপিসি গুণগত মানসম্পন্ন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে না পারায় প্লান্টগুলো বিদ্যুত্ উত্পাদনে কয়েকশ’ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে বিদ্যুত্ প্লান্টগুলো বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুত্ বিভাগ যে সকল কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদে সক্ষমতা আছে তাদেরকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি প্রদান করে। বেসরকারিখাতে প্রধান বিদ্যুত্ উত্পাদনকারী সামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্লান্ট যেমনঃ সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লি:, খুলনা পাওয়ার কো: লি., খুলনা পাওয়ার কো: লি-২ এবং খাঁনজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানি লি: নিজস্ব ব্যবহারের জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। গত ১৫ বছরে সামিট গ্রুপ প্রায় ২১ লক্ষ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে। এ প্রসঙ্গে সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কোং লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর উম্মেদ খান ‘ইত্তেফাক’কে বলেনঃ আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদনে উপযোগী সর্বোচ্চ মানের ফার্নেস অয়েল আমদানি করে থাকি এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য একটি দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেয়া হয়। যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতা আছে, সে কারণে এ সকল প্রতিষ্ঠান সার্বিকভাবে সাফল্যের সাথে পরিচালিত হতে পারে। আর যেহেতু সরকারের তুলনায় বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েলের দাম কম। তাই বিদ্যুতের উত্পাদন খরচও কম হবে। এর সুফল পাবেন ভোক্তারা। এ প্রসঙ্গে বিপিসি’র চেয়ারম্যান ইউনুছুর রহমান গতকাল ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, কম দামে বেসরকারি পর্যায়ে ফার্নেস অয়েল আমদানি করার কথা নয়। তবে বেসরকারিভাবে আমদানিকারকদের ভ্যাট দিতে হয় না। এজন্য তাদের আমদানি মূল্য কম। প্রতি লিটার ফার্নেসে বিপিসির ২ টাকার কম মুনাফা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম কমানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। পিডিবির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব নেই।