সম্প্রতি ঘুরে গেলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক অনেক কারণেই তার এই সফর গুরুত্ব বহন করে। তবে প্রধানমন্ত্রী ও একাধিক রাজনৈতিক নেতার সাথে এই সাক্ষাতের পাশাপাশি তিনি অতিথি হিসেবে পেয়েছেন তার পছন্দের শাড়ি। রাজনৈতিক গভীর আলোচনার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এই শাড়ির উপঢৌকনের বিষয়টিও তাই এসেছে আলোচনায়।
সেই শাড়ি কূটনীতি নিয়েই লিখেছেন তালেব রানা
গেল সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভারতের জনগণের শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়েই তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিন দিনের এই সফরের মধ্য দিয়ে তার বিদেশ যাত্রা শুরু। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গন ছিলো অনেকটাই সরগরম। চলছিলো নানামুখী হিসাব-নিকাশও। ভারতের বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের পর নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধরন ও প্রকৃতি কি হবে তা অনেক খানি নির্ভর করছিলো এই সফরে। যে কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে আপ্যায়নেও দেখা গেল বাড়তি আয়োজন।
গত ২৬ জুন সফরের দ্বিতীয় দিনে সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা অভিন্ন তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা তৈরির চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থল সীমান্ত চুক্তির (এলবিএ) প্রটোকলগুলো ভারতীয় রাজ্যসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ঐদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস্) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি দুই দেশের সুসম্পর্কের গুরুত্ব উল্লে¬খ করতে গিয়ে বলেন, নিকটতম প্রতিবেশীর সঙ্গে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের সম্পর্ক স্থাপন ছাড়া ভারত তার উন্নয়নকে পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই করতে পারবে না। ভারতের নতুন সরকারের পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তি হবে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে সকল দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
তিন দিনের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চমত্কার সূচনা হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সফর শেষে সুষমা স্বরাজের ঢাকা ত্যাগের আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন জানান, এই সফর সন্তোষজনক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মোদী সরকার বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেবে। বাংলাদেশ থেকে ভালো উপলব্ধি নিয়েই আমরা দিল্লি ফিরে যাচ্ছি। তবে শুধু উপলব্ধি নয়, আতিথেয়তার মুগ্ধতা নিয়েও ফিরে গেছেন তারা। সফরে সুষমাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তার সম্মানে নিরামিষ খাবারের নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিলো। আর দিল্লি ফিরেছেন বিখ্যাত জামদানি শাড়ি নিয়েও।
দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের প্রধানতম পোশাক যে শাড়ি তা নতুন করে বলার কিছু নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরেও পাওয়া গেল সেই শাড়ি। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, বাংলাদেশের প্রধান তিন নেত্রীর জন্য ভারতীয় শাড়ি নিয়ে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ। সফরের দ্বিতীয় দিন সুষমা স্বরাজ ক্রিম রঙের একটি শাড়ি উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এর বদলে শেখ হাসিনা তাকে জামদানি শাড়ি দেন। শেষ দিনে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল। এ সময় তারা সুষমা স্বরাজকে জামদানি শাড়ি উপহার দেন। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাক্ষাত্ করেন সুষমার সঙ্গে। তিনিও সুষমাকে জামদানি শাড়ি উপহার দিয়েছেন। বেগম জিয়া দুটি জামদানি শাড়ি দেন। একটি দেন সুষমা স্বরাজের জন্য অন্যটি তার মেয়ের জন্য।
বলা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘শাল কূটনীতির পর এই শাড়ি কূটনীতি এসেছে। গত ২৬ মে শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক দেশগুলোর সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। মোদী শরিফের মায়ের জন্য একটি শাল উপহার দেন। পরে নওয়াজ মোদীর মায়ের জন্য একটি শাড়ি পাঠান। ভারতের গণমাধ্যম বলছে নতুন ঘরনার এই কূটনীতি চালুর কৃতিত্ব নরেন্দ্র মোদীর।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উপহার আদান-প্রদানের সংস্কৃতি দীর্ঘ দিনের। সাধারণত গহনা, শিল্পকর্ম, ইলেকট্রনিক্স পণ্য উপহার হিসেবে দেয়া হয়। কিন্তু অঞ্চলভেদে উপহারের ধরনও যে পরিবর্তিত হয়। শাড়ি উপহার সেই কূটনীতিরই উদাহরণ হতে পারে।
