তারুণ্যের পছন্দের রং

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ১৯:২৯
ইদানীং তরুণদের ফ্যাশনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পোশাকের রং। রং নির্বাচন সঠিক হলে পোশাকের ফ্যাশনটাও সফল হয়। ফ্যাশনসচেতন প্রতিটি মানুষ পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে রং নির্বাচনে বেশ তত্পর থাকে। কারণ ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে পোশাকের গুরুত্ব সর্বজন স্বীকৃত। রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবহাওয়া একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয়। শীতকালে যে রং ব্যবহার হয় পোশাকে সেই বর্ণের রং গ্রীষ্মকালে আরামদায়ক হয় না। আর বরাবরই পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে তরুণরা অনেক বেশি খুঁতখুঁতে। এ সময়ের তরুণদের রং ভাবনা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত তরুণদের পোশাকে সচরাচর যেসব রঙের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়, গরমের সময় যেন তার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে। এই ব্যতিক্রম মূলত অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার জন্য। গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সময় ও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ডিজাইনের যেসব পোশাক পরা হয়, সেসব পোশাকের রং সাধারণত বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে। তবে এ সময়ও কখনও কখনও পারিপার্শ্বিকতার বিষয়টি মাথায় রেখে পোশাকের রং নির্বাচন করা হয়ে থাকে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই পোশাকের রং হিসেবে সবার প্রথম পছন্দ আরামদায়ক রং। আর প্রতিটি রঙই তৈরি করে আলাদা অভিব্যক্তি। আসুন জেনে নিই নানা রঙের নানা আবেদন সম্পর্কে। ষ লাল :লাল রং হচ্ছে আগুনের রং, ইচ্ছার রং। যখন আপনি লাল রঙের পোশাক নির্বাচন করেন তখন নিজের অজান্তেই মনের গভীরে জ্বলন্ত শিখাটি বাঙ্ময় হয়ে ওঠে আপনার দেহে। সাদা :সাদা পবিত্রতার প্রতীক। শুভ্র পরিধেয় যে কাউকে করে তোলে পবিত্রতার প্রতিচ্ছবি। কোনো পুরুষ যদি সাদা পোশাক পরে তবে তা যেন তাকে দেখারই আমন্ত্রণ জানায় এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার অভিব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার মধ্যে। কালো :এ রঙকে বলা হয় বাসনা উদ্দীপক রং। কালো রঙের পোশাক যেন আবহাওয়াকেও রহস্যময় করে তোলে। আবার কখনও কখনও শোকের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। তবে আজকের ফ্যাশন জগতে কালো নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। কালো মেয়েও এখন অনন্য হয়ে উঠছেন কালো রঙের পোশাকে। গোলাপি :মিষ্টি গোলাপি রঙের পোশাকে নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্যে আরোপ করে আকর্ষণ। ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার অজানা প্রয়াস থাকে গোলাপি রঙে। আহ্লাদী এ রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয় মন। সবুজ :এটি উদ্দীপক রং নয়, তবে যখন কোনো ছেলে কিংবা মেয়েদের শরীরে আকৃতি ও রং বিপরীত সমন্বয় ঘটায় তখন এই শান্ত সবুজ রঙই দেহকে আকর্ষণীয় ও আবেদনময় করে তোলে। নীল :এটি স্নিগ্ধ রঙ। নীল রঙের অভিব্যক্তি হচ্ছে তুষার শীতলতা যা কখনোই উত্তেজক হয়ে ওঠে না। বাদামি :কেউ যদি আবেদনময়ী হতে চান তাহলে এ রঙের পোশাক না পরাই ভালো। কারণ এ রং নেতিবাচক আবেদন তৈরি করে। ধূসর :অভিব্যক্তিহীন প্রশান্ত হচ্ছে ধূসর। হলুদ :এ রঙকে বলা হচ্ছে রক্ষণশীল রং। হলুদ রঙের পোশাক পরিচিত মেয়েদের অভিব্যক্তি উদ্দীপক হলেও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে চললে মন্দ নয়। এবার আসুন জেনে নিই কোন পরিবেশে কেমন রং আপনার জন্য মানানসই হতে পারে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে :পার্টির পোশাক তুলনামূলক গর্জিয়াস হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ড্রেসে রং উজ্জ্বল বর্ণের হয়। তবে গরমের সময় রাতের বেলায় আবহাওয়া কিছুটা ঠাণ্ডা থাকে। সে সময় ড্রেসের রং হাল্কা উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে ততটা সমস্যাদায়ক হয়ে ওঠে না। পারিবারিক অনুষ্ঠানে হাল্কা গাঢ় বর্ণের পোশাক পরিধান স্বস্তিদায়ক এবং বেশ আকর্ষণীয় হয়। হাল্কা মেরুন, গাঢ় স্কাই, মেজেন্ডা, সিলভার, বলটপ গ্রিন, গাঢ় গোলাপি, মাটি বর্ণের রং এ ধরনের পার্টির পোশাকে ব্যবহার করা যেতে পারে; যা পরিধানকে আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং মানানসই হবে। ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে :সাধারণত ক্যাম্পাসের পোশাক হিসেবে অধিকাংশ তরুণরা শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং তরুণীরা থ্রি-পিস পরিধান করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হয় তাদের। সময়টাও প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া। সাধারণত অধিকাংশ ক্যাম্পাসের ক্লাস হয় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। গ্রীষ্মকালে এ সময় প্রচণ্ড গরম থাকে। তাই গরম আবহাওয়া সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পোশাকের রং নির্বাচন অতি জরুরি। হাল্কা রঙের পোশাক পরিধানে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হতে স্বস্তি পাওয়া যায়। হাল্কা সবুজ, সাদা, অ্যাশ, হলুদ, গোলাপি, ঘিয়ে, কলাপাতা বর্ণের পোশাক পরিধান করলে গরম আবহাওয়ায় বেশ প্রফুল্ল মনে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা যায়। হালকা বর্ণের রঙের পোশাক তাপ শোষণ ক্ষমতা কম থাকায় গরম আবহাওয়ায় দেহকে বেশ শীতল রাখে। তাই হালকা বর্ণের পোশাক গ্রীষ্মকালে সবার পোশাক হিসেবে খুব ভালো। আড্ডার ক্ষেত্রে :তারুণ্য মানেই আড্ডাপ্রিয়। এ সময় বিভিন্ন সাম্প্রতিক ও শিক্ষার বিষয় আলোচনা করে থাকে তারা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকেল বা সন্ধ্যায় আড্ডায় মেতে ওঠে তরুণরা। এ সময় আবহাওয়া কিছুটা ঠাণ্ডা থাকে। আবহাওয়ায় খুব গরম না থাকায় পোশাক পরিধানে তেমন সমস্যা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণদের আড্ডার সময় হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধান করতে লক্ষ্য করা যায়। এ সকল টি-শার্টের রং হয় সাধারণত হোয়াইট, মিল্যান্সম পেস্ট, পেক্টোল, ক্রিম, বিস্কিট, সিলভার, ফিরোজা, হলুদ, হাল্কা সবুজ। বিকেল ও সন্ধ্যায় আড্ডার সময় এসব রঙের হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধানে নিজেকে বেশ প্রাণবন্ত ও উত্ফুল্ল করে তোলা যায়। যা আড্ডাকে বেশ আনন্দঘন করে তোলে। বেড়াতে যাওয়ার সময় :বেড়াতে গেলে সাধারণত বেশ কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘভ্রমণ ও ভিন্ন আবহাওয়া তখন বেশ ক্লান্ত করে তোলে। তাই এ ক্ষেত্রে আরামদায়ক রঙের পোশাক পরিধান বেশ কার্যকর। যার ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া বেশ গরম থাকায় মানানসই ও হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধানে বেশ প্রাণবন্ত করে তোলা যায় নিজেকে। মডেল নাবিলা