ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ আইএসআইএস ইরাকের সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সকল তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করছে বলে জানা গেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর তাদেরকে ইসলামি শাসন মেনে নিতে বাধ্য করা হবে। যারা এসব মেনে চলবে না তাদেরকে ধরে ধরে হত্যা করা হবে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
কুর্দিদের একটি শরণার্থী শিবির থেকে মসুল শহরের সাবেক নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ আইএসআইএস দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তাদের যেন সহজেই চিহ্নিত করা যায় সেজন্য একটি ডাটাবেজও তৈরি করছেন তারা। তিনি আরও জানান, এসব কর্মকর্তা ও সেনাদের আইএসআইএসের সামনে হাজির করা হবে। তাদেরকে ইসলামি শাসন মেনে নিতে বাধ্য করা হবে, নতুবা তাদের শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। গত একমাসে ইরাকের মসুল, তিকরিতসহ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নেয় আইএসআইএস জঙ্গিরা। এর ফলে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইরাক সরকারের তথ্যমতে, জুন মাসেই অন্তত ২ হাজার ৪৬১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
কুর্দি নিয়ন্ত্রিত শহর সিনজারে আশ্রয় নেয়া অনেক শরণার্থী বলেছেন, যে শহর এবং গ্রাম থেকে তারা পালিয়ে এসেছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবেই আইএসআইএস-এর জঙ্গিরা দখল করে নিচ্ছে। মসুল থেকে পালিয়ে আসা কুর্দি নেতা বাশার আল খালিকি বলেছেন যে, আইএসআইএসের তালিকাভুক্ত সরকারি বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি তাদের খিলাফত শাসন না মানে তাহলে তাদের হত্যা করা হবে। এরকম অবস্থায় মসুলে অনেক কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায়নি। গত সপ্তাহে আইএসআইএস সিরিয়া ও ইরাকে খিলাফত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
