প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় উজ্জীবিত কোস্টারিকা। শেষ চার নিশ্চিত করার লড়াইয়ে সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তেনোভায় বর্তমান রানার্স-আপ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এই লড়াইয়ে কোস্টারিকা চমক দেখাবে বলে মনে করেন শেষ ষোলতে গ্রীসের বিপক্ষে জয়ের নায়ক গোলকিপার কাইলর নাভাস।
শেষ ষোলর ম্যাচে রেসিফেতে অ্যারেনা পারনামবুকুতে গ্রীসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন নাভাস। গ্রীসের থিওফ্যানিস গিকাসের শট বামহাতে আটকে দিয়ে কোস্টারিকাকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দেন তিনি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট আগে সতীর্থ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় অস্তার দুয়ার্তে লাল কার্ড পেলেও নাভাসকে টলাতে পারেনি গ্রীস। দক্ষতার সঙ্গে আগলে রেখেছেন গোলপোস্ট। নাভাস বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য কিছু। আমার জীবনে ঘটা ভাল ভাল নানা ঘটনার মধ্যে এটা একটা। পেনাল্টি শুরু হওয়ার আগে সতীর্থরা আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। এটা আমাকে প্রেরণা দিয়েছে। আমরা অনেক ভুগেছিলাম। আমরা প্রাণদিয়েই খেলেছিলাম। মাঠে আমরা কঠোরভাবে লেগেছিলাম। একজন কম নিয়ে খেলে টাইব্রেকার পেতে আমাদের কত কষ্টই না করতে হয়েছে। আমি ঈশ্বরকে বলছিলাম, তিনি যাতে আমাকে একটি শট ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করেন।’
টাইব্রেকারে কিক ফিরিয়ে দেয়া কেবল একটি সুযোগই ছিল না, গ্রীসের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোস্টারিকা পেনাল্টি নিয়ে নিখুুঁত প্রস্তুতিও নিয়েছিল বলে জানালেন নাভাস, ‘আমরা তাদের পেনাল্টিগুলো নিয়ে অনুশীলন করেছিলাম। এসব কিছু নিয়ে কঠিন পরিশ্রম করেছি। আমরা সবসময়ই জানতাম ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
কোস্টারিকার রক্ষণভাগ ব্রাজিল বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। গত চারশো মিনিট খেলে একটি মাত্র গোল হজম করেছে তারা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলপোস্ট আগলে রাখাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ স্কোরার ডাচরাই। লুইস ফন গালের শীষ্যদের মধ্যে আরিয়েন রোবেন, রবিন ফন পার্সি এবং ওয়েসলি স্নেইডার এরই মধ্যে নিজেদের প্রমাণ দিয়েছেন। গত চারম্যাচে নেদারল্যান্ডসের ১২ গোলের বিপরীতে পাঁচটি গোল করেছে কোস্টারিকা।
তবে সেরা ফর্মে থাকা নাভাস প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসকে ভয় পাচ্ছেন না। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী তিনি। মৃত্যুকূপ ‘ডি’ এর হয়ে খেলার আগে ম্যারিও বালোতেল্লি, লুইজ সুয়ারেজ এবং ওয়েন রুনির প্রতি সম্মান রেখেই লেভান্তের এই গোল কিপার বলেছিলেন, ‘প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়াটাই আমার দায়িত্ব। আমার দেশের গৌরবের জন্য আমি আরও কিছু করে দেখাতে চাই। এটা কেবল তাদেরকে (নেদারল্যান্ডস) আটকে দেয়ারই ব্যাপার না, আমি আমার দলকেও সাহায্য করতে চাই।’
