মাছ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৪
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ রপ্তানি হয়, প্রায় সমপরিমাণ মাছ বিদেশ থেকে আমদানি হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রতিবছর মাছের আমদানি বেড়েই চলেছে। সে তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মাছ রপ্তানির সাথে সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার মাছ চাষের প্রতি নজর না দিলে এদেশের মাছ চাষ দিন দিন হ্রাস পাবে। সেক্ষেত্রে দেশ আমদানি মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। জানা যায়, দেশে মাছ আমদানি হয়ে থাকে বছরে প্রায় ৬২ হাজার টন। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে ৬৩ হাজার টন। বাংলাদেশে মাছ আমদানি হয়ে থাকে চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা, আইড়, মৃগেল, চন্দনা ইলিশ, চকোরি ইলিশ এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ। সাদা মাছ হিসাবে পরিচিত এসব মাছ মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, বাহরাইন, ওমান ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি হয়ে থাকে। বিদেশ থেকে মাছের আমদানি গত বছর ৫৬ হাজার টন হলেও এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজার টন। আমদানি করা মাছের গুণগত মান নিয়েও অনেকের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া আমদানিকৃত মাছের স্বাদ একই প্রজাতির দেশীয় মাছের তুলনায় অনেক কম। অবশ্য আমদানিকৃত মাছের দামও অনেক কম। দেশীয় মাছের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা আমদানি মাছের ওপর বেশি নির্ভরশীল। দেশীয় মাছ সচরাচর পাওয়া যায় না। বাজারে আসা বড় বড় চিতল, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা মাছের বেশিরভাগ আমদানি করা। বিদেশি মাছের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে দেশে মাছ চাষের প্রতি আগ্রহ আগের মত নেই বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তাছাড়া বাংলাদেশে মাছ চাষের খরচ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ মাছ চাষে যে জমি ব্যবহার করা হয় তার খাজনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নেয়া হয়। অথচ একই জমি ধান বা অন্য কৃষি কাজে ব্যবহার করা হলে খাজনা খুবই নগণ্য। অনুরূপভাবে কৃষি কাজে বিদ্যুতের ভর্তুকি থাকলেও মাছ চাষে ব্যবহূত বিদ্যুত্ চার্জ বাণিজ্যিকভাবে নেয়া হয়। তাছাড়া মাছের খাবারসহ অন্যান্য কাঁচামাল ও উপকরণের মূল্যও অনেক বেশি। মাছ চাষি ও মাছ রপ্তানিকারকদের মতে, সরকারকে মাছ চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই এ সেক্টরে বিনিয়োগ করতে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবে। এক মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমারের সভাপতিত্বে বিদেশ থেকে মাছ আমদানির বিরূপ প্রভাব নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিম্নমানের মাছ আমদানি হয় বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। মাছ আমদানির ক্ষেত্রে যে মূল্য দেখানো হয় তাও সঠিক নয় বলে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। অধিকাংশ মাছের আমদানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েস বা কম মূল্য দেখানো হয়। এতে করে সরকারও সঠিক শুল্ক পায় না। আর রপ্তানির বিরাট অংশ চিংড়ি জাতীয় মাছ। জানা যায়, প্রতিবছর রপ্তানিকৃত মাছের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টন সাদা মাছ এবং বাদবাকি চিংড়ি। হিমায়িত মত্স্য রপ্তানিকারক সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে সব মিলে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে। রপ্তানিকৃত চিংড়ি মাছের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ ভ্যালু এ্যাডেড মাছ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- রেডি টু কুক এবং রেডি টু ইট জাতীয় প্যাকেটজাত মাছ। তবে জানা যায়, আমদানি মাছ এবং রপ্তানি মাছ পরিমাণে প্রায় সমান হলেও মূল্যের দিক থেকে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারণ আমদানি করা সাদা মাছের মূল্য রপ্তানি করা চিংড়ি মাছের তুলনায় অনেক কম। সমপ্রতি বাংলাদেশ হিমায়িত মাছ রপ্তানিকারক সমিতির উদ্যোগে চিংড়ি চাষে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। আধুনিক আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে এক পাইলট প্রকল্পে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি চিংড়ি উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। অথচ সাধারণ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে প্রতি হেক্টরে উত্পাদন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি। তাই উক্ত এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিন উল্লাহ চিংড়ি চাষে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দানের দাবি জানিয়েছেন।