পবিত্র রমজান মাসে এখানকার বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সিটি করর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করাসহ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার ‘নগর ভবন’ কর্তৃপক্ষ। ফলে নগরীর বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা যে যার মতো করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।
পণ্যের একেক বাজারে একেক রকম দর-দাম নিয়ে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। তবুও নীরব সিটি কর্পোরেশন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিটি পণ্যতে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন বিক্রেতারা। সরেজমিনে নগরীর বটতলা, বাংলাবাজার, চৌমাথা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে সিটি করর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যে মূল্য তালিকা লেখা রয়েছে তা বিগত ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের তালিকা। বাজার রোডের বড়বাজারসহ অধিকাংশ বাজারের বোর্ডে কোন মূল্য তালিকা নেই। অনেক বাজারে মূল্য তালিকা লেখার বোর্ড খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ৭ বছর আগে মূল্য তালিকায় কাঁচা মরিচের দাম লেখা রয়েছে ৩৫ টাকা। এখন ঐ বাজারেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ টাকায়। মূল্য তালিকা মেনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় তো দূরের কথা এ বোর্ডে কারা মূল্য তালিকা লেখেন তাও জানেন না অনেক ক্রেতা-বিক্রেতারা।
বাজারের স্থায়ী ব্যবসায়ীরা জানান, করর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে/মধ্যে ইজারা নিয়ে ঝামেলা হলে বাজারে আসতে দেখেন। এ ছাড়া তাদের মুখ দেখা যায় না কোন বাজারে। যে সব বাজারে গিয়ে সিটি করর্পোরেশনের মূল্যতালিকা লেখা বোর্ড পাওয়া গেছে তাও হাস্যকর। কয়েকটি বাজারে দেশি ও বিদেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি যথাক্রমে ৩৫ ও ২৫ টাকা লেখা রয়েছে। ঐ বোর্ডের পাশেই দেশি পিঁয়াজ ৪০ টাকা আর বিদেশি পিঁয়াজ ৪২/৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তালিকায় সরষের তেল প্রতি লিটার দেয়া আছে ১১১ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১৮৮ টাকায়। গুঁড়া দুধের দাম ‘ডানো’ তালিকায় আছে ৫৯০ টাকা আর বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। বেগুনের দাম তালিকায় আছে ৪০ টাকা আর বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তালিকায় মিনিকেট ও পাইজাম প্রতি কেজি চালের দাম দেয়া আছে যথাক্রমে ৩৭ থেকে ৪৬ টাকা। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা দরে।
সিটি করর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিলচন্দ দাস জানান, যেসব বিক্রেতারা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি পণ্যের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে বাজারগুলোতে খুব শীঘ্রই বোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল জানান, শুধু মূল্য সংযোজন নয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে খুব শীঘ্রই নগর ভবনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হবে বাজারগুলোতে।
