বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর উত্সবভাতা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২০
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ৯৫%-এর বেশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের প্রারম্ভিক বেতনের ১০০% রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হলেও তাঁরা সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র পেশাজীবী যারা সিকিভাগ (২৫%) উত্সবভাতা পান। প্রারম্ভিক পর্যায়ে কলেজের একজন প্রভাষক উত্সবভাতা পান ২৭৫০/- (বেতনস্কেল ১১০০০/-), স্কুলের একজন প্রশিক্ষিত স্নাতক ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক পান ২০০০/- (বেতনস্কেল ৮০০০/-), স্কুলের একজন অপ্রশিক্ষিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক পান ১৬০০/- (বেতনস্কেল ৬৪০০/-)। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী উত্সবভাতা পান ২০৫০/- (বেতনস্কেল ৪১০০/-)। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত উত্সবভাতা বেতনস্কেলের ২৫%, কর্মচারীবৃন্দের জন্য বেতনস্কেলের ৫০% ! বৈষম্যটি পীড়াদায়ক। তখন দিব্যদৃষ্টিতে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পাদটীকা’ গল্পের পণ্ডিতমশাই ভেসে ওঠেন, তিনি যেন ‘লাট সাহেবের কুকুরের কয় ঠ্যাং-এর সমান’? লেখকের ভাষায় “নীরবতাই হিরন্ময়” Silence is golden!!! মানব সম্পদ উন্নয়নে ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকের জীবনমানের উন্নতির বিকল্প নেই এবং কারিগরকে অভুক্ত, অবহেলিত রাখলে জাতি হয়ে উঠবে অবনমিত ও নিম্নগামী। অত্যন্ত সীমিত আয়ের এ মানুষগুলোর জীবন দারুণ কায়ক্লেশে স্থবির। রমজান ও ঈদ ভাবনায় শিক্ষকসমাজ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল। কাজেই শীঘ্রই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের জন্য পূর্ণাঙ্গ (১০০%) উত্সবভাতা ঘোষণার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর ১৭৩০