সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে সব করা হবে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুশৃঙ্খল বাহিনী পরিচালনায় চেইন অফ কমান্ড সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, কার্যকরী কমান্ড চ্যানেল সেনাবাহিনীতে যে কোন কাজ সমাধানে মুখ্য ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সকল স্তরের কমান্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও তাদের প্রতি অনুগত থাকলে যে কোন কাজ দক্ষতা, শৃংখলা ও নিপুণতার সাথে সমপন্ন করা সম্ভব। নেতৃত্বের প্রতি সমপূর্ণ আস্থা রেখে সকল কাজে আপনারা এগিয়ে যাবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি।’ প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, কমান্ডারগণও তাদের অধীনস্থদের প্রতি সবসময়ই প্রয়োজনীয় মনোযোগ বজায় রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব. ) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুইয়া, নৌ বাহিনী প্রধান ভাইস-এডমিরাল মুহম্মদ ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারী, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ল্যা. জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ সফিউল হক সহ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ার সোহেল সিদ্দিকী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিজিআর হেডকোয়াটার্সে এসে পৌঁছলে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী গার্ডদের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী রেজিমেন্টের পূর্বসুরীদের স্মরণ করে বলেন, তাদের কর্তব্য পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ রেজিমেন্টের ইতিহাসকে করেছে গৌরবোজ্জ্বল এবং অনুকরণীয়। দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ সংগঠনের একাগ্রতা ও আত্ম উত্সর্গের মনোভাব যেন চিরদিন বজায় থাকে তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং মহান আল্লাহ-তাআলার দরবারে তাদের বেহেশত কামনা করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অসামান্য দূরদর্শিতায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন, সময়ের আবর্তে সে দিনের সেই রেজিমেন্টটি উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আজ একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণভবনে গার্ড সদস্যদের আবাসস্থল স্বল্পতার সমস্যা নিরসনে ১৫০ জনের বসবাসযোগ্য একটি ব্যারাক নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও নতুন ফরমেশন সাইন প্রবর্তিত হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণে জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দুই ভাই ১৫ আগস্ট শাহাদাত্ বরণকারী শেখ কামাল ও শেখ জামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। সর্বকনিষ্ঠ ভাই দশ বছরের শিশু শেখ রাসেলও ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর অফিসার হবে বলে প্রায়শঃই ইচ্ছা প্রকাশ করতো। এ কারণে সশস্ত্র বাহিনীর উপর তার দুর্বলতা ও গভীর ভালোবাসা রয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীকে আধুনিক এবং শক্তিশালী করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সরকার সবই করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষায় বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এজন্য দেশ ও জাতি হয়েছে গর্বিত ও আশান্বিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলেই ইতোমধ্যে অবগত আছেন যে, বর্তমান সরকার একালের সর্ববৃহত্ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার মূল্যে রাশিয়ার সাথে অস্ত্র চুক্তি করেছে। এই চুক্তির ফলে আমরা খুবই কম মূল্যে রাশিয়া হতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয় করতে পেরেছি। এটি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাকে অনেকাংশে বৃদ্ধি করবে এবং জাতিসংঘ মিশনে গমনকালে এ সকল আধুনিক অস্ত্র আমাদের সুনাম অনেক বৃদ্ধি করবে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে পিজিআর আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। এসময় জাতির সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।