গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ভাইকে হত্যা করে বোন অপহরণ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২২:২৮
গ্রাম্য জনপদ। রাত তখন দশটা। রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাত্ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রসহ ১০/১২ জন যুবক হুড়মুড় করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। কিছু বোঝার আগেই তারা গৃহকর্তার ছোট মেয়ে ঘুমন্ত খাদিজা আক্তারকে (১৬) তুলে নিয়ে ঘরের বাইরে অপেক্ষমাণ মাইক্রোবাসে তোলে। বোনের চিত্কারে এগিয়ে আসে একমাত্র ভাই শফিউল আলম সবুজ (২৫) ও বৃদ্ধ বাবা। বোনকে মাইক্রোবাস থেকে নামানোর চেষ্টা করে সবুজ। এ সময় দৃর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর খাদিজাকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের খঞ্জনপুর গ্রামে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ অপহূত খাদিজাকে উদ্ধার করতে পারেনি। জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান জানান, শোনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযানে অপহরণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খাদিজাকে উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত সবুজের বাবা আবু তালেক বলেন, তিন মাস আগে সদর উপজেলার তেঁতুলতলী গ্রামের বাসিন্দা শিপনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তার প্রথম সংসারের (প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন) ছোট মেয়ে খাদিজা পরিবারের অমতে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাকে বাড়িতে না তুলে বগুড়ায় নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। খাদিজা ওই সময় আমার বড় মেয়ের বাড়িতে থেকে স্কুলে পড়তো। আবুল তালেক বলেন, শিপন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এটা জানতো না খাদিজা। এছাড়া বিয়ের পর পরই খাদিজা জানতে পারে শিপনের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় গত একমাস আগে খাদিজা শিপনকে তালাক দেয়। এরপর থেকে শিপন নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। একাধিকবার খাদিজাকে অপহরণের চেষ্টা করে। ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দশটার দিকে রাতের খাবার খেয়ে খাদিজা ঘুমিয়ে পড়েছিল। তিনিসহ অন্যরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় গ্রামের পরিচিত একজনের নাম করে দরজার কড়া নাড়ানো হয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা ঢুকে তার মেয়েকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বাধা দেয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তার ছেলেকে তার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে এসেছিল। তিনি বলেন, চিত্কার শুনে এলাকাবাসী অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় মাইক্রোবাসে উঠতে ব্যর্থ হয়ে পাঁচ দুর্বৃত্ত দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে। আটককৃতদের কাছ থেকে জানা যায়, শিপনের নির্দেশেই তারা খাদিজাকে অপহরণ করেছে। ষাটোর্ধ্ব এ বৃদ্ধ নিহত ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, সবুজই তার সংসাদের সবকিছু দেখভাল করতো। জয়পুরহাট সদর থানার ওসি আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হচ্ছে: বগুড়ার গাবতলীর জহুরুল ইসলাম, বগুড়া সদরের নাটাইপাড়া গ্রামের সোয়েল রানা, সৌরভ, মানিক হোসেন ও রাজন হোসেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, মূল অপহরণকারী শিপন তাদের পূর্বপরিচিত। তার অনুরোধে তারা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এলাকাটি তাদের অপরিচিত হওয়ায় তার পালাবার সময় পথ হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলে। তবে অপহরণের পর খাদিজাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তারা জানে না। ওসি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। অপহূত খাদিজাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। দোগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, এর আগেও বখাটে শিপন একই কায়দায় খাদিজাকে অপহরণ করার চেষ্টা করে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছে। রমজানের তারাবীহ্’র সময় সুযোগ পেয়ে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।