কার্ড ডিভিশন কর্মকর্তা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৭
মানুষের জীবনে আর্থিক দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো না কোনো পর্যায়ে সবারই আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকিং ক্যারিয়ার অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ক্রেডিট কার্ড বিভাগ। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে আলাদা কার্ড বিভাগ হচ্ছে। তাই গত কয়েক বছরে এ বিভাগের কাজের সুযোগও অনেক বেড়েছে। তাই এবার এই কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আয়োজনটি গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও আহসান রনি খোরশেদ আলম সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ফাইন্যান্স লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লি. তার শৈশব কেটেছে শরীয়তপুর ভেদেরগঞ্জ উপজেলার একটি সমৃদ্ধশালী পরিবারে। তার পরিবার শরীয়তপুরে বিশেষভাবে পরিচিত, বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী পরিবার হিসেবে সবাই জানেন। মাস্টার্স রেজাল্ট বের হওয়ার ৭ দিন পূর্বেই একটি চাকরি পেয়ে যান ‘প্রবেশনারি অফিসার অর্থ ও হিসাব’ পদে একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিতে। ২-৩ বত্সর চাকরি করার পর তার বিভাগীয় প্রধান তখনকার নাম করা লিজিং কোম্পানি ভ্যানিক বাংলাদেশ লি. (যা বর্তমানে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লি. হিসেবে পরিচিত)-এ যোগদান করেন। উনি খোরশেদকে তার কাজের জন্য খুবই পছন্দ করতেন। ঠিক তার পরপরই লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লি.-এ চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি লংকাবাংলা ফাইন্যান্সে ‘নির্বাহী-অর্থ ও প্রশাসন’ পদে যোগদান করেন। সেই থেকে এখনও লংকাবাংলায় আছেন তিনি। বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব রিটেইল ফাইন্যান্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। যেহেতু তার প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লি. একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেহেতু এর প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ও সম্পদ ক্রয়ে অর্থায়ন করা। লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লি.-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব রিটেইল ফাইন্যান্স হিসেবে। তিনি জানালেন, ইদানীং নতুন পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা ঘনঘন চাকরি পরিবর্তন করে উচ্চ পদ ও বেতনের আশায় কিন্তু চাকরির পরিবেশ ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের গুণাবলি নিয়ে ভাবেন না, তাই এক পর্যায়ে তারা চাকরি হারা হচ্ছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাছাড়া বেশিরভাগ নতুনদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়—তারা যে কাজটি করে তার বাইরে অন্য কোনো কাজ করতে পছন্দ করেন না বরং এড়িয়ে চলেন। অথচ কাজ শেখার কোনো বিকল্প নেই। তারা ১-২টি কাজের বাইরে অন্য ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ দেখান না। ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি সামাজিক কাজে সংশ্লিষ্ট হওয়া, সর্বোপরি একটি ‘ওল্ড হোম ও অনাথ আশ্রম’ তৈরি করার ইচ্ছা আছে তার। যেখানে বৃদ্ধ বয়সে সমাজ ও সংসারে ঠাঁই পায় না এবং যারা অনাথ তাদের আশ্রয়, খাবার ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে চান প্রজন্মের অন্যতম এই ব্যাংকার। খোরশেদ আলম ডাকনাম :শাহীন জন্ম তারিখ ও স্থান :১৩ নভেম্বর, শরীয়তপুর মায়ের নাম :খোরশেদা বেগম বাবার নাম :আব্দুর রহমান বকাউল প্রথম স্কুল :চরভাগা প্রাইমারি স্কুল, শরীয়তপুর প্রিয় মানুষ :আমার মা প্রিয় উক্তি :ক্ষতি করব না, পারলে উপকার করব। সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা, পরিশ্রম, কাজকে ভালোবাসা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকার বদ্ধ থাকলে একদিন না একদিন সাফল্যের দেখা অবশ্যই মিলবে। ০০০০০ এইচএম মোস্তাফিজুর রহমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কার্ড বিভাগের প্রধান, ঢাকা ব্যাংক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে গ্র্যাজুয়েশন করার পর ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি (বিআরসি) কর্তৃক আয়োজিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে সরাসরি সিনিয়র অফিসার হিসেবে ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে যোগদান করেন। এরই মধ্যে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ডিএআইবিবি লাভ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। সোনালী ব্যাংকে কিছুদিন শাখায় কাজ করার পরে তাদের আইটি বিভাগে কাজ করার জন্য মনোনীত হন, যেখানে স্বনামধন্য আইটি বিশেষজ্ঞ ড. কায়কোবাদের অধীনে প্রোগ্রামিং অ্যালগোরিদমের উপর ৩ মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং ও আইটি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করার সুযোগ লাভ করেন। পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যাংকে যোগদান করে বিভিন্ন ক্যাপাসিটিতে কাজ করেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় যোগদানের সুযোগ লাভ করেন। তিনি প্রজন্মের মেধাবীজন ঢাকা ব্যাংকের কার্ড ডিভিশন প্রধান এইচএম মোস্তাফিজুর রহমান। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে শৈশবের সময়টা কেটেছে এই জেলা থেকে ওই জেলায় ঘুরে। ফলে প্রতিবারই মিলিছে নতুন নতুন বন্ধু। সাথে নানা ধরনের মানুষ, নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতি। শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং খুলনাতে। তার শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলো এসে বর্তমানে কাজে লাগছে, কারণ তাকে পুরো এখন একটি দল পরিচালনা করতে হয়। দুই বোন দুই ভাইয়ের মাঝে মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থান সবার ছোট। বাবা-মা, স্ত্রী ওয়ালিমা এবং দুই পুত্র আরহাম ও আজওয়াফকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। নিজের কাজের ক্ষেত্র এবং এখানে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কথা বলতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার কাজের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক মানি ব্যবসা প্রসারে ও সম্মানিত গ্রাহকের সন্তুষ্টি বিধানে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রোডাক্ট ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন ও গ্রাহকের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্কোন্নয়ন আমি ও আমার টিম ব্যবস্থাপনার নীতি, নির্দেশনার আলোকে কাজ করছি’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন ব্যাংকিং ক্যারিয়ারকে ঘিরেই। নিজের কাজ এবং মেধার সমন্বয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এইচএম মোস্তাফিজুর রহমান ডাকনাম :চুন্নু জন্ম তারখি ও স্থান :৬ অক্টোবর মায়ের নাম :মমতাজ বেগম বাবার নাম :মো. মোতাহার আলী হাওলাদার প্রথম স্কুল :পলোগ্রাউন্ড প্রাথমিত বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রিয় মানুষ :বাবা প্রিয় উক্তি :Suffering is the essence of success!!! (A.P.J. Abdul Kalam) প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট সাফল্যের সংজ্ঞা :স্বপ্ন থাকতে হবে, সেই সাথে positive চিন্তা করার মানসিকতা। ০০০০০০০০০০০ রাসেল হাসান হেড অব কার্ড, কার্ড সেকশন, ইস্টার্ন ব্যাংক বাবা চাকরি করতেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে, সর্বশেষ তিনি চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বাবার চাকরির সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় থাকার সুযোগ হয়েছে। চার ভাই-বোনের ভেতরে সবার ছোট হওয়ার কারণে পরিবারের সকলের মধ্যমণি ছিলেন এবং দুরন্ত শৈশব কেটেছে তার। ২০০২ সালে ইনডিপেন্টডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন করেন। গ্র্যাজুয়েশনের প্রয়োজনে তাকে ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এর সুবাদে তিনি আইটি কনসাল্টটেন্ট লিমিটেডে ইন্টার্নশিপ শুরু করেন। ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আইটিসিএল তার দক্ষতার জন্য তাকে চাকরি প্রদান করে। এভাবেই তার কার্ড পেমেন্ট শিল্পে পদার্পণ। দীর্ঘ ছয় বছর আইটিসিএল-এ কাজ করার সময় তিনি কার্ডের বিভাগের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় কাজ করার সুযোগ পান। তার নিষ্ঠা এবং যোগ্যতার কারণে অল্প কিছুদিনের ভেতর ম্যানেজমেন্ট তাকে এটিম ও কিওস্ক শাখার প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেয়। এরপর ২০০৮ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে আইটি বিভাগে কার্ডস এবং ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইউনিটের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দেড় বছরের ভিতর একই বিভাগে সিনিয়র ব্যবস্থাপক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর ২০১২ সালে দি সিটি ব্যাংকের কার্ড অপারেশন বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের কার্ড বিভাগে হেড অব কার্ডের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যেখানে বর্তমানে সব পর্যায়ের গ্রাহকদের মান সম্মত কার্ড সেবা ও প্রযুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার মতে, বাংলাদেশের মাত্র ১৫% জনগণ বর্তমানে ব্যাংকিং সেবার সাথে জড়িত এবং পুরো অর্থনীতির ১% কার্ড ট্রান্সজেকশনের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং ভবিষ্যতে এই পেশায় কাজ করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। এই পেশায় নতুনদের আগ্রহ কেমন? উত্তরে তিনি জানালেন, ‘নতুনরা এখন প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেটের কারণে সকল বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারছে। যার ফলে তাদের কাজের মান অনেক ভালো হয়েছে।’ ভবিষ্যত্ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে চাই বাংলাদেশে একদিন কৃষক, মজুরসহ সব শ্রেণীর মানুষ ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে, যার ভেতর অর্থনীতির কমপক্ষে ৫০% কার্ড-নির্ভর লেনদেন হবে।’ পরিবারের কথা এলে তিনি জানালেন স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা অর্নিকে নিয়ে ঢাকার উত্তরাতে তার সুখের সংসার। রাসেল হাসান ডাকনাম :জুয়েল জন্ম তারিখ ও স্থান :৪ জুলাই, ঢাকা মায়ের নাম :আনোয়ারা বেগম বাবার নাম :মরহুম আব্দুস সালাম প্রথম স্কুল :সিভিল এভিয়েশন হাই স্কুল, কুর্মিটোলা ঢাকা প্রিয় মানুষ :বাবা প্রিয় উক্তি :সর্বদা কাজের প্রতি অনুগত হতে হবে। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্যের কোনো সংজ্ঞা নেই, নিজের যোগ্যতা, ও দক্ষতা অনুযায়ী নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে।