সব সময়ই তাগিদ ছিল দেশের জন্য কিছু করার। দেশের প্রত্নসম্পদ একটি অংশ অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সেগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য। বর্তমানে ক্ষতিকর ফরমালিনের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য তিনি খুব কম দামে নিয়ে এসেছেন ফরমালিন টেস্ট করার মেশিন। ফিল্ম বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ফিল্ম সোসাইটি। এর পাশাপাশি নিজে নিজেই তিনি শিখেছেন ১৩টি ভাষা। বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটির নাম মাহমুদ রেজা মেহেদী। তার গল্প শোনাচ্ছেন আহসান রনি
উত্তরবঙ্গের ছেলে তিনি। তাই ছোট থেকেই বাংলাদেশের নানা প্রত্নসম্পদ দেখে দেখে বড় হয়েছেন। নিজ এলাকায় অনেক প্রত্নসম্পদ সময়ের সাথে সাথে বিলীন হতে দেখেছেন তিনি। তাই তিনি উদ্যোগ নেন এমন কিছু করার যার ফলে শুধু নির্দিষ্ট কিছু নয় বরং সকল প্রত্নসম্পদগুলোর সঠিক দেখাশোনা করা হবে এবং এসব প্রত্নসম্পদ বাংলাদেশের পর্যটন হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে। তাই তিনি চেষ্টা করছেন এমন একটি সংগঠন দাঁড় করাতে যেটি সরকারের পাশাপাশি কাজ করে যাবে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায়। মেহেদীর আরেকটি নেশা হলো ভাষা শিক্ষা। তিনি ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইটালিয়ান, চাইনিজ, জাপানিজসহ প্রায় ১৩টি ভাষায় কথা বলতে পারেন। নওগাঁ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকায় চলে আসেন মেহেদী। ভর্তি হন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য পড়ার সময় তার আগ্রহ তৈরি হয় ফিল্মের প্রতি।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তাই ঢাকা ফিল্ম আর্কাইভে গিয়ে ফিল্মের উপর লেখা নানা ধরনের বই পড়তে শুরু করেন তিনি। ২০০২ সালে কিছু বন্ধু ও ফিল্মে আগ্রহী ছাত্রদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি’। ফিল্ম বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েই শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। পড়াশোনার করার সময়েই মেহেদী ঠিক করেছিলেন কোনো চাকরি করবেন না। নিজ থেকে উদ্যোগ নিলেন নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে কাজ করার। অনেক ভেবে দেখলেন বাংলাদেশের অবিশুদ্ধ পানি এদেশের মানুষের অন্যতম সমস্যা। সেই সমস্যা দূরীকরণ ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘এনমেক্স ওয়াটার টেক’ নামক একটি কোম্পানি। পানি বিশুদ্ধকরণ মেশিন কম দামে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে থাকেন তিনি। তার এই কোম্পানি থেকে তিনি কার্বন-মনো-আক্সাইড টেস্ট করার মেশিন, পানি ও বাতাস পরীক্ষা করার মেশিন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি দেশে নিয়ে এসেছেন বাতাসে ফরমালিন টেস্ট করার মেশিন। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। তিনি খুব কম দামে এই যন্ত্রটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তিনি জানালেন, এই মেশিনটি মূলত বাতাসে ফরমালিন আছে কি না সেটি টেস্ট করার জন্য ব্যবহূত হয়। এই যন্ত্রে ফল, মাছে ফরমালিন আছে কি না তা টেস্ট করার যায়। কারণ মাছে বা ফলে ফরমালিন থাকলে তা তার আশপাশের বাতাসে মেশে এবং সেই বাতাস পরীক্ষা করে এই মেশিন ফল বা মাছে ফরমালিন আছে কি না তা নির্ণয় করে। তিনি এই যন্ত্রটি অনেক কম দামে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন বলে জানালেন তিনি। দেশের কল্যাণে কাজ করাই মেহেদীর লক্ষ্য। তিনি দেশের প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যেমন কাজ করে যাচ্ছেন তেমনি দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিয়ে এসে নানা সময় দেশের মানুষকে সাহায্য করে যাচ্ছেন তিনি।
মাহমুদ রেজা মেহেদী
ডাকনাম :মেহেদী
জন্ম তারিখ ও স্থান :৩০ মে, নওগাঁ
মায়ের নাম :শরীফা বেগম
বাবার নাম :মুক্তিযোদ্ধা মামুন রেজা
প্রিয় মানুষ :বাবা
প্রিয় উক্তি :Trying to draw a dot to make a line
অবসর কাটে যেভাবে :ভাষা চর্চা
সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্য আপেক্ষিক।
