পূর্ব জেরুজালেমে মঙ্গলবার রাতে অপহূত ফিলিস্তিনি কিশোরের অগিদগ্ধ দেহ খুঁজে পাওয়ার পর ফিলিস্তিনি তরুণদের সঙ্গে ইসরায়েলি দাঙ্গা পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা পাথর ছুঁড়লে এবং ট্রামের ডিপো ধ্বংস করলে পুলিশ রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। স্থানীয় লোকজন বলছে অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংক থেকে যে তিনজন ইসরায়েলি তরুণকে অপহরণ ও পরে হত্যা করা হয়েছিল তাদের শেষকৃত্যের অল্প কিছুক্ষণ পরেই ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আবু খাদিরকে জোর করে একটি গাড়িতে তারা তুলে নিতে দেখেছে। ইসরায়েলি পুলিশ বলছে, ফিলিস্তিনি কিশোরের হত্যা প্রতিশোধমূলক হতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি জানায়, ফিলিস্তিনি কিশোর মোহাম্মদ আবু খাদিরের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পূর্ব জেরুজালেমের মুসলমান-প্রধান এলাকাগুলো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে এসে ভাংচুর শুরু করে। ছোট ছোট গুলতি হাতে ফিলিস্তিনি কিশোররা সশস্ত্র ইসরায়েলি পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। মোহাম্মদ আবু খাদিরের আধা পোড়া মৃতদেহ পাওয়া যায় জেরুজালেমের শহরতলীতে এক জঙ্গলের মধ্যে। তার পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওয়েস্ট ব্যাংকে তিনজন ইহুদি কিশোরের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই তাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। তবে জেরুজালেম পুলিশের একজন মুখপাত্র বলছেন, এই হত্যার উদ্দেশ্যটি তারা এখনও তদন্ত করে দেখছেন।
ইসরায়েলি পুলিশ ভোরবেলায় খবর পায় যে, এই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তারা জেরুজালেমের সড়কগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসায়। এর ঘণ্টা দেড়েক পরে জেরুজালেমের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বোঝার চেষ্টা করছে এটি কোনো সাধারণ অপরাধের ফল, নাকি এর পেছনে কোনো জাতীয়তাবাদী কারণ রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নাজুক সম্পর্ককে আরো বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। কারণ, ফিলিস্তিনি কিশোরের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘর্ষ আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনি মেডিক্যাল স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত জেরুজালেমে ৬০ জনের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এ সংঘর্ষের ঘটনায়।
