বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দুর্নীতির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এমন অভিযোগ করে এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য ও প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকশেষে শিক্ষামন্ত্রী এ দাবি জানান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা সভায় একযোগে বলেছেন, টিআইবি’র প্রতিবেদন অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দুর্বলতা ও ত্রুটি থাকতে পারে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ধোয়া তুলশি পাতা আমরা এও বলছি না। মন্ত্রী জানান, ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কোন না কোন মামলা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মামলা শেষ হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাতিল করে দেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়নি। এই প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ ও অপরিপক্ক। টিআইবিকে প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুর্নীতির বিষয়ে প্রমাণ দিতে হবে। আর প্রমাণ না দিতে পারলে প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে তাদের দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ( ইউজিসি) কোন টাকা দিতে হয় কি-না এ বিষয়ে জানতে ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন, ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগ, পাঠদানের অনুমোদন নিয়ে কোন পর্যায়ে কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি বলে তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, টিআইবি সত্ ও নিরপেক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে পিএইচডি সনদ কিনতে পাওয়া যায়, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কোন কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো লেখাপড়াও হয়। সনদ বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, টিআইবি নিন্দনীয় রিপোর্ট করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক দুর্গাদাস ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সংবাদপত্রগুলো ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে। টিআইবি থেকেও সাংবাদিকরা বেশি ক্ষতিকর। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা মানুষের চরিত্র হনন করে তথ্য সন্ত্রাস করে। সন্ত্রাসের জন্য শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের শাস্তি হলেও তথ্য সন্ত্রাসের জন্য গত ৫০ বছরে কোন সাংবাদিকের শাস্তি হতে দেখিনি।
নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক বলেন, সনদ বাণিজ্য করা ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উচ্চারিত হলে আমরা বিব্রত হই। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্বৈত শাসনের মধ্যে রয়েছে। মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিটি ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কী মান, কেমন, ইউজিসিকে তা বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে পারে। তবে আর শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হবে না।
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ইউজিসির লোকবল বাড়ানো ও মানসম্মত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ হাস্যকর। টিআইবির প্রতিবেদন অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-নোমান বলেন, এমন কোন রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত নয়; যা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।
