রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় অধ্যক্ষের কার্যালয়, ভর্তির কন্ট্রোল রুম ও শিক্ষক মিলনায়তনে ভাঙচুর চালানো হয়। তিনটি কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অধ্যক্ষের ফ্যাক্স মেশিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। গতকাল রবিবার এ ঘটনার সময় আতঙ্কে পালিয়ে যায় ভর্তির জন্য আসা শিক্ষার্থীরা। নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করায় এই হামলা-ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগ- ছাত্রদল।
এদিকে, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের হামলার কারণে ভর্তির দশম অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ২টার পর দশম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তির কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। জোহরের নামাজের পর ভর্তি কমিটির শিক্ষকরা অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিলে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা তালিকা প্রকাশে বাধা দেয়। তারা শূন্য আসনে নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার দাবি জানায়। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাদের অনৈতিক দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় তারা কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে আসার আগেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বাধা ও ভাঙচুরের কারণে কলেজের ১৪৭টি আসন এখনো শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আব্দুস সোবাহান বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীর সরকারি কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর পরই ভর্তি বাণিজ্যে নামে ছাত্রলীগ। এরই মধ্যে সিটি কলেজে কয়েক দফা হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে তারা। এছাড়া রাজশাহী কলেজ ও নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজেও ভর্তিতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগ।
