আসল বোতলে নকল প্রসাধন

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৪
পুরান ঢাকার বংশালে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়ে নকল প্রসাধন সামগ্রী তৈরির ১৮টি কারখানা ও গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাব সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধন সামগ্রী ও তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করে। এ ঘটনায় সহোদর আনোয়ার হাওলাদার ও ছানোয়ার হাওলাদারকে গ্রেফতার করে ২ বছরের জেল ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, নর্থ সাউথ রোডে বংশাল থানার পেছনে মালিটোলার ময়না হাজীর বাড়ি এবং আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতে গড়ে উঠেছিল নকল প্রসাধন সামগ্রীর কারখানা। শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, চুলের তেল, বডি লোশন, ক্রিমসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহূত কন্টেইনার সংগ্রহ করে তাতে ইচ্ছা মতো উপাদান ভরে বাজারজাত করতো এই অসাধু ব্যবসায়ীরা। আসল মোড়ক ও প্রায় হুবহু রঙ-সুগন্ধি ব্যবহারের কারণে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে বোঝাও মুশকিল তা খাঁটি না নকল। তিনি জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে মালিটোলার ১৫ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নকল প্রসাধন কারখানার সহোদর ২ মালিক আনোয়ার হাওলাদার ও ছানোয়ার হাওলাদারকে ২ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কারখানা ও গুদামগুলোও সিলগালা করে দেয়া হয়। র্যাব-১০ এর কর্মকর্তা মেজর শামীম আহমেদ অভিযানটি পরিচালনা করেন। বিএসটিআই কর্মকর্তা মনির হোসেনও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ কন্টেইনার ও প্রসাধন তৈরির উপাদান ধ্বংস করারও নির্দেশ দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, ১৯৯১ সাল থেকে তারা ফেরিওয়ালা হিসেবে কাগজ ও প্রসাধন সামগ্রীর খালি কন্টেইনার কিনতেন। প্রায় ১ যুগ আগে তারা শুধু প্রসাধন সামগ্রীর কন্টেইনার কেনাবেচার পাইকারি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তারা করেন নকল প্রসাধন তৈরির পরিকল্পনা। তারা ময়না হাজীর বাড়ির দোতলা-নিচতলা এবং পাশের কয়েকটি বাড়িতে কারখানা ও গুদাম তৈরি করেন। এসব স্থানে মজুদ করা হয় বিপুল পরিমাণ খালি বোতল, কৌটা, কাগজের মোড়ক, লেবেল, হলোগ্রাম স্টিকার ও কাঁচামাল। কোনো রকম অনুমোদন ও বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই নিজেরাই তরল সাবান, স্পিরিট, সুগন্ধি ইত্যাদি দিয়ে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, লোশন, সুগন্ধি ও বডি স্প্রে তৈরি করা শুরু করে। সেগুলো ব্যবহূত আসল কন্টেইনারে ভরে বাজারজাত করা হতো। এর মধ্যে ছিল প্যান্টিন, ডাভ, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, সানসিল্ক ও ক্লিয়ার ব্রান্ডের শ্যাম্পু এবং মেক্সি, এক্স, হ্যাভক, ব্রুট ও ডয়েট ব্রাণ্ডের বডি স্প্রে ও লোশন। নকল প্রসাধন কারখানার কর্মচারী মশিউর জানান, ব্যবহূত বোতল ও কৌটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে তাতে নতুন লেবেল ও হলোগ্রাম লাগিয়ে নতুনের মতো করা হতো। পরে ইনজেকশন সিরিঞ্জের সাহায্যে নকল শ্যাম্পু বা লোশনের তরল ভেতরে ঢোকানো হতো। দেখতে আসলের মতো হওয়ায় এবং নির্ধারিত ব্রান্ডের অনুরূপ সুগন্ধি ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারী আসল-নকলের পার্থক্য সহজে বুঝতে পারতেন না। সাধারণ বিপণি বিতান তো বটেই, অনেক নামকরা শপিং মলেও এসব পণ্য বিক্রি হয় বলে তিনি দাবি করেন।