দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ এপ্রিলে সংঘটিত ফেরিডুবির পিছনে সরকারের অবহেলা ও দুর্নীতি আংশিকভাবে দায়ী। এতে বলা হয়, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পরিদর্শন কাজে যথাযথমানের অভাব, জরুরি সময়ে কোস্টগার্ডের ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণে শিথিলতা এবং তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাই এসবের জন্য দায়ী।
দক্ষিণ কোরিয়ার নিরীক্ষা এবং পরিদর্শন বোর্ড মঙ্গলবার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, আঞ্চলিক বন্দর প্রশাসন ফেরিটি চলাচলে লাইসেন্স প্রদান করে। এরপর ফেরিটিকে তারা অবৈধভাবে সংস্কার করে এর চলাচল অব্যাহত রাখে। যাতে করে এটি আরো অনেক বেশি কার্গো পরিবহন করতে পারে। আর এসবের কারণেই এত বড় ধরনের ফেরি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ফেরি ডুবিতে সেসময়ে ৩শ’ ৪ জন যাত্রী নিহত হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ছাত্র। দুর্ঘটনার পর ২৯৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে এখনও পর্যন্ত তা বের করা না গেলেও ধরে নেয়া হচ্ছে তারা আর কেউ বেঁচে নেই। ফেরি ডুবির এ ব্যাপক প্রাণহানির পর সেসময়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষ। তারা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে। সবকিছুর দায়ভার মাথায় নিয়ে তখন পদত্যাগ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চাং হু-অন।
