যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির শেষ দিনে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগোতে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন।
সংঘবদ্ধ চক্র ও আইন অমান্যকারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরার সময় শিথিল আইনের কারণে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে না গিয়ে সম্ভবত পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।
শহরজুড়ে বিক্ষিপ্ত এসব সহিংসতায় আরো ৫৩ জন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে শহরটির কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়ে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বজায় ছিল বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই সময় শহরজুড়ে ৫০টি বিচ্ছিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং ৯ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার দিন শুরুর পর প্রথম কয়েক ঘন্টায় আরো বেশ কিছু লোক গুলিবিদ্ধ হন বলে জানিয়েছে শিকাগো ট্রিবিউন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিকাগো পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট গ্যারি ম্যাকার্থি এই সহিংসতাকে “অগ্রহযোগ্য” বলে বর্ণনা করেছেন। আগ্নেয়াস্ত্র বিস্তারের অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নয়জনের মধ্যে পাঁচজন তাদের গুলিতে ও অন্য দু’জন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এসব ঘটনার মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহতের তিনটি ঘটনায় নিহতরা পুলিশের দিকে অস্ত্র তাঁক করেছিল, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ বিভাগ।
চতুর্থ ঘটনায় নিহত জন পুলিশকে তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা জানানোর পর পুলিশ তাকে গুলি করে। এতে মারাত্মক আহত হয়ে সে মারা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুধু রবিবারেই ২১টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
শিকাগোর মেয়র রহম ইমানুয়েল এসব গুলিবর্ষণ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ইমানুয়েল নিজেও আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়ে আসছেন।
