মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, তিনি মনে করেছিলেন, আল জাজিরার তিন সাংবাদিককে যে গত মাসে অন্তরীণ রাখা হয়েছিল, তাদের আর কখনোই বিচারের সন্মুখীন করা হবে না। স্থানীয় এক পত্রিকা তার উদ্ধৃত করে জানায়, সিসি বলেন, এই বিচারের কারণে খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থি দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন করায় গত মাসে ওই তিন সাংবাদিককে কমপক্ষে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে ‘সন্ত্রাসী’ দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহযোগিতা করার দায়ে অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক পিটার গ্রেস্টে, কেনিয়া-ভিত্তিক মোহাম্মদ ফাহমি এবং কানাডিয়ান-মিসরীয় সাংবাদিক বাহের মোহামেদকে দোষী সাব্যস্ত করে কায়রো আদালত। তবে তিনজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তিন বিদেশি সাংবাদিকসহ ১১ জনকে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হয়। অন্যদেরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া, গোলাবারুদ বহনের দায়ে আরেকটি আলাদা মামলায় বাহের মোহামেদের আরো তিন বছরের জেল হয়েছে। তাদের এ বিচারে বিদেশি সরকার, মানবাধিকার গ্রুপ মিসর সরকারের সমালোচনা করে বলেছে এর মাধ্যমে বাক্-স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। আল জাজিরা বলেছে, এটা যুক্তি জ্ঞান ও ন্যায়বিচারকে হার মানিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে রবিবার রাতে এক আলাপকালে সিসি পাল্টা অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেন, এ মামলাটি আসলে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা। তিনি বলেন, এ রায় অনেক সাংবাদিকের প্রতিই একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর এর জন্য আমাদের কিছুই করার ছিল না। তিনি বলেন, আমি মনে করে ছিলাম তাদের গ্রেফতারের পর বিচারের পরিবর্তে তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হবে।
